শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৭

হালদার পানির হঠাৎ রং পরিবর্তন

কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা, জীব বৈচিত্র্য নিয়ে আশঙ্কা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

হালদার পানির হঠাৎ রং পরিবর্তন
চার দিন ধরে পানির রং পরিবর্তন হয়েছে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর -বাংলাদেশ প্রতিদিন

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ দুই বছর ধরে ভালোই ছিল। ইতিবাচক পরিবেশে মা-মাছ ডিমও দিয়েছে আশানুরূপ। কিন্তু চার দিন আগে নদীর সাতটি পয়েন্টে পানির রং পরিবর্তন হয়ে যায়; যা গতকাল পর্যন্ত একই অবস্থায় রয়েছে। পানি দূষিত হয়ে মা মাছ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর এখনো কালো রঙের পানির উৎস খুঁজে পায়নি। পানি পরীক্ষায় পরিবেশ অধিদফতর চার পয়েন্ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।

জানা যায়, চার দিন আগে থেকে হালদা নদীর রামদাশ মুন্সিরহাট এলাকা,  কাগতিয়া, গড়দুয়ারা, নাজিরহাট পৌর এলাকা ও রাউজানের বিভিন্ন পয়েন্টের পানির রং হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। হালদার পানির স্বাভাবিক রং পরিবর্তন হওয়ায় তা দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। হালদায় জোয়ার শুরু হলে গাঢ় বিশ্রী রং মিশ্রিত পানির প্রবাহ দেখা যাচ্ছে।

চবি হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘চারদিন ধরে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানির রং পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয়রা। আমরা এর উৎস খোঁজ করেও সন্ধান পাইনি। তবে এভাবে হালদা নদীর পানির রং পরিবর্তন হলে মা মাছ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হিসেবে পরিণত হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব দূষণের কারণ ও উৎস বের করে এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।’

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘গতকাল দিন ও রাতে পৃথকভাবে অন্তত পাঁচটি সংযোগ খালের মুখসহ বিভিন্ন এলাকায় পানির রং পরিবর্তনের উৎস খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই হালদা পাড়ের মানুষদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ- কেউ যদি এর সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তাৎক্ষণিক নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ 

পরিবেশ অধিদফতর ল্যাবরেটরির সিনিয়র কেমিস্ট কামরুল হাসান বলেন, ‘চারটি  পয়েন্ট থেকে পানি নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখনো প্রতিবেদন তৈরি হয়নি। প্রতিবেদন তৈরি হলে পানির রং পরিবর্তনের কারণ ও উৎস জানা যাবে।’    

জানা যায়, গত দুই বছর ধরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন হালদা নদীর দূষণ রোধ ও মা মাছ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ইতিমধ্যে ১৫০টি অভিযানে ধ্বংস করা হয় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৯টি ড্রেজার ও ২৭টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এ ছাড়া তিনজনকে কারাদন্ড এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ঘনফুট বালি ও ২ লাখ ৩৩ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা করা হয় এক লাখ ৫২ হাজার টাকা। তাছাড়া গত এক বছর আগে বন্ধ করা হয়েছে হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট ও এশিয়া পেপার মিল।  তবুও লোভাতুর কিছু অসাধু মানুষের শকুনি দৃষ্টি থামছেই না। প্রাকৃতিক জীববৈচিত্রের আধার হালদা নদীকে দূষণ করা হচ্ছে। বসানো হচ্ছে জাল। 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর