শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:১০

হত্যার পরিকল্পনা দুজনের দুই স্বার্থে

গোপালগঞ্জে ইউপি সদস্য খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের গোপিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হামিদুল শরীফকে গুলি করে হত্যার পেছনে কাজ করেছে দুই খুনির দুই স্বার্থ। একজন ভেবেছিলেন, হামিদুলকে হত্যা করা হলে তার লোক পরবর্তী মেম্বার হবেন। আরেক খুনি ভেবেছিলেন, হামিদুলকে হত্যা করলে ফেঁসে যাবে তাকে অপহরণ মামলার আসামি করা ইউপি চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফ। কারণ অনাস্থা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কিছুটা দ্বন্দ্ব চলছিল নিহত মেম্বারের। এ ঘটনার প্রধান আসামি রবিউল শরীফকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত সোমবার রাতে পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলি থেকে রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়। গত রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় আমির মোল্লাকে। পৃথক অভিযানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক সাগরকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি। অভিযান তিনটির নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত এসপি মুক্তা ধর। গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) মো. মোমিন হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রথমে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। পরে ওই মোটরসাইকেলের (গোপালগঞ্জ ল-১১-১৪৮১) সূত্র ধরে একটি পেট্রোল পাম্প ও রূপসা সেতুর টোল প্লাজার সিসি ক্যামেরা ফুটেজের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে যশোরে অভিযান পরিচালনা করে মোটরসাইকেলের মালিক আমিরকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় রবিউলকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। হত্যাকান্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত এসপি মুক্তা ধর বলেন, রবিউল ও আমির দুজনেই যশোরে থাকেন।

তাদের মধ্যে রবিউলের বাড়ি নিহত মেম্বারের গ্রামেই। এর পাশের গ্রামেই বাড়ি আমিরের। রবিউল ভেবেছিলেন, হামিদুলকে হত্যা করলে তার লোক পরবর্তী মেম্বার হবে। অপরদিকে, একটি অপহরণ মামলার আসামি করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চেয়ারম্যান লাচ্চুর ওপর ক্ষোভ ছিল আমিরের। কয়েক মেম্বার মিলে অনাস্থা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কিছুটা দ্বন্দ্ব ছিল হামিদুলের।

সে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানকে ফাঁসিয়ে দিতে হামিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে রবিউলের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করে যশোরের এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে। ঘটনার দিন ভ্যান থামিয়ে হামিদুলের বুকের বাম পাশে চারটি গুলি করে আমির। এরপর মোটরসাইকেল যোগেই তারা আবার যশোরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হওয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

গোপিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফ বলেন, আমিরকে আমি চিনি না, সুতরাং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রশ্নই আসে না। তবে রবিউলকে চিনি, সে হামিদুলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা। হামিদুলসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য মিলে অনাস্থা আনছে বলে যে কথা সিআইডি কর্মকর্তারা বলেন, তা অস্বীকার করেছেন লাচ্চু শরীফ।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের গোপিনাথপুর হাই স্কুলের কাছে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন হামিদুল শরীফ (৪৫)। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর