শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০৬

সমস্যার শেষ নেই ঢাকা দক্ষিণে

৭৫ ওয়ার্ডের ৭৪টিতেই দরিদ্রদের বসবাস

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৪টিতেই দরিদ্র মানুষের বসবাস। অনেক সমস্যায় জর্জরিত এসব ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। থাকার জায়গা, সুপেয় পানি, পরিবারের আয়, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শৌচাগারের ব্যবস্থা, জমি ভোগ-দখলের নিরাপত্তা, উচ্ছেদের ঝুঁকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সংযোগ, সড়ক ও ড্রেনের (নালা) সুবিধাসহ ১৯ ধরনের নাগরিক সুবিধাকে বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের ওপর একটি গবেষণা করেছে ইউএনডিপি। নগরে দারিদ্র্য কমানোর উপায় খুঁজতে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। সম্প্রতি ডিএসসিসির নগর ভবনে এ গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গবেষক দল জানায়, কমপক্ষে ৫টি বাড়ি রয়েছে এমন এলাকাকে একটি বসতি ধরা হয়েছে। যে এলাকায় এর কম দরিদ্র পরিবার আছে সে এলাকা গবেষণায় আসেনি। এ কারণে গবেষণায় আসা দরিদ্র লোকের চেয়ে দক্ষিণ ঢাকায় আরও বেশি দরিদ্র লোক রয়েছে। তবে গবেষণায় সিটির দরিদ্র মানুষের সঠিক চিত্র উঠে আসেনি বলে অভিযোগ মেয়র ও কাউন্সিলদের। জানা যায়, মাঠপর্যায়ে কাজটি করেছে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (ডিএম) ওয়াচ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গবেষণা অনুযায়ী, এসব ওয়ার্ডে মোট দরিদ্র এলাকা রয়েছে  ৭৮৬টি। যেখানে মোট ৭১ হাজার ৩৪৬টি পরিবারের ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৯ দরিদ্র মানুষ বসবাস করেন। ডিএসসিসির মোট ৪ দশমিক ৫ ভাগ এলাকায় দরিদ্র মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড তথা জুরাইন এলাকায় সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষের বসবাস। এরপর ৫৮ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের ২০ ভাগ এলাকায় এবং ৫৪, ৬০ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫ ভাগ এলাকায় গরিব মানুষ বসবাস করে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৫টি, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪১টি, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৮টি এবং ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪২টি দরিদ্র এলাকা রয়েছে। তবে ১০ নম্বর ওয়ার্ড তথা মতিঝিল কলোনি এলাকায় কোনো দরিদ্র লোক নেই। এ ব্যাপারে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এ গবেষণায় দক্ষিণ সিটির দারিদ্র্যের চিত্র সঠিকভাবে উঠে আসেনি। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, একটি ওয়ার্ডের কোথায় অনুন্নত বা দরিদ্র জনগোষ্ঠী বসবাস করে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ঠিকভাবে করা যাবে না। এ গবেষণায় দারিদ্র্য নিয়ে একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার। ডি এম ওয়াচের গবেষণা দলের প্রধান বায়েজীদ হাসান বলেন, গবেষণার সময় আমাদের টিম বারবার স্থানীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে কর্মশালা করেছে। কাউন্সিলরদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও মাঠপর্যায়ের কাজে যুক্ত ছিলেন। এখন কী কারণে বিরোধিতা করছেন তা আমরা বুঝতে পারছি না। এ ফলাফলই আমরা ইউএনডিপিকে সরবরাহ করব।

গবেষণা দলের আরেক টিম লিডার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. গোলাম মঈনুদ্দিন জানান, ডিএসসিসির ওয়ার্ডভিত্তিক দরিদ্র বসতি শনাক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরদের দেওয়া ছয়জন করে প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এ গবেষণা ও ফলাফল সম্পর্কে তারা আগে থেকেই জানেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর