শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১২

চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি

বিশ্বের সেরা ৩০ নগরের তালিকায় সিংড়া পৌরসভা

নাটোর প্রতিনিধি

একটি নিরাপদ গণপরিবহন সেবা হিসেবে নাটোরের সিংড়া পৌরসভায় শুরু হয়েছিল জার্মানির দাতা সংস্থা জিআইজেড প্রদত্ত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা ও ই-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ‘চলো’। করোনা মহামারীর শুরুতে সংক্রমণ রোধকল্পে বন্ধ হয় গণপরিবহন। ফলে সিংড়াতেও থেমে যায় গাড়ির চাকা। রোগী ও আক্রান্তদের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার জন্য চালু ছিল শুধু সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু চাহিদার নিরিখে তা নিতান্তই নগণ্য। মহামারীর এই সময় যখন বিশ্বব্যাপী লকডাউনে বন্ধ গণপরিবহন, তখন করোনায় আক্রান্ত ও অন্যান্য রোগী পরিবহন এবং মানবিক খাদ্য সহায়তা বিতরণে ই-রিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সকে মাঠে নামান সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস। নিরাপদ গণপরিবহন হিসেবে দেওয়া তিন ও চার চাকার গাড়িগুলো বাংলাদেশের একটি পৌর শহরে করোনাকালে সুরক্ষা ও মানবিক সংকটে কাজ করছে এমন প্রতিবেদন জার্মানির টুমি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। তা নজরে আসে চীনের নগর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা সংগঠন জুয়াংজু ইন্টারন্যাশনাল আরবান ইনোভেশন টেকনিক্যাল কমিটির। খবরটি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের সিংড়া পৌরসভায় জিআইজেডের ‘চলো’ গণপরিবহন সার্ভিসের কো-অর্ডিনেটর বিনায়ক চক্রবর্তী। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইরান, ইসরায়েল, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নগর উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিংড়া পৌরসভার নাম। আরও খুশির খবর, আর্জেন্টিনার পরই দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশের এই পৌরসভা।

প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিনায়ক চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশি মূল্যমান প্রায় ১ কোটি টাকা থেকে কেনা মোট ১২টি অটোরিকশার মধ্যে ছয়টি চার চাকার গাড়ি আর বাকি ছয়টি তিন চাকার গাড়ি নিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে চালু হয় ‘চলো’ সার্ভিস। চার চাকার চারটি গাড়িতে আটটি আসন রয়েছে। এর প্রতিটির গাড়ির মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। অপর দুটি চার চাকার গাড়ির প্রতিটির মূল্য ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অপরদিকে বাকি ছয়টি তিন চাকার গাড়ির মধ্যে তিনটির প্রতিটির মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং অপর তিনটির প্রতিটির মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ১২টি গাড়ির মধ্যে চার চাকার দুটি গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে আর বাকি ১০টি গাড়ি গণপরিবহন হিসেবে পৌর এলাকায় যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল। গাড়িগুলোর প্রতিটিতে উন্নতমানের ব্যাটারি ও মোটর রয়েছে। এগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য পৌরসভার পাশেই নির্মাণ করা হয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার্জিং স্টেশন। গাড়িগুলো প্রায় শব্দহীনভাবে চলে। কোনো ধোঁয়া নিঃসরণ হয় না এবং ব্যাটারিগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহায়ক। জুয়াংজু ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড কমিটি আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতির সঙ্গে পাঠিয়েছে ৪১ পৃষ্ঠার একটি তথ্যবিবরণী। বিবরণী সূত্রে জানা যায়, টেকনিক্যাল কমিটির কাছে গত নভেম্বরে বিশ্বের ৬০টি দেশের ১৭৫টি নগরের ২৭৩টি ‘উন্নয়ন উদ্যোগ প্রস্তাবনা’র নাম, যা বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে ১৫৮টি নগরের ৫৫টি উদ্যোগ প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। ১৫৮টি নগরের মধ্যে ৪৫টি নগর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে ১৫টি নগর ‘শর্ট লিস্টেড’ এবং বাকি ৩০টি নগরকে ‘ডিজার্ভিং’ হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হলো। এই ৩০ নগরের তালিকায় দেশের দিক থেকে বাংলাদেশের সিংড়া পৌরসভা দ্বিতীয় এবং ক্রমিক নম্বরের দিক থেকে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।

সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ই-পরিবহন সার্ভিসের মাধ্যমে করোনাকালে সুরক্ষা ও লকডাউনে ঘরে ঘরে মানবিক খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়ে আজ আন্তর্জাতিকভাবে যে স্বীকৃতি অর্জিত হলো, তা সিংড়া পৌরবাসীকে উৎসর্গ করছি। আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কাছে। তিনি সিংড়াবাসীর জন্য উন্নত ও আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিতে বরাবরের মতো এ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেছেন।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিরল এই সম্মাননা করোনাযুদ্ধের স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসর্গ করছি। বিশেষ করে সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌসকে, যিনি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও মানবিক সংকটে সিংড়া পৌরবাসীর সেবায় ৫৫ দিন নিজের ঘরে প্রবেশ করেননি। ভবিষ্যতে আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একমাত্র পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি মেলায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন সিংড়াবাসী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর