শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:০১

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রকাশ্যে করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়ে ভাতা পান রাজশাহীর এমন ১২৬ জন তাদের গেজেট নিয়মিত রাখার সুপারিশ পাননি। সম্প্রতি বেসামরিক গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত রাজশাহী মহানগরী কমিটি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) নির্দেশনায় এ কমিটি ১৬০ জনকে যাচাই-বাছাই করে। এর মধ্যে ৩৪ জনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট নিয়মিত করার সুপারিশ, ৮৪ জনের আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর এবং ২৬ জন গেজেট নিয়মিত করার আবেদন না করায় তাদের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করা হয়নি। এ ছাড়া আটজনের ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্ত আসায় তাদের ব্যাপারে অধিকতর যাচাই করে জামুকাকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে কমিটি। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। যারা সুপারিশ পাননি তারা প্রতিবেদনটি দেখার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তারা গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের এ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গায় রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান। সদস্যসচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক ও সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এস মনিরুল ইসলাম। সুপারিশ না পাওয়া ব্যক্তিরা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কমিটির সভাপতি সফিকুর রহমান ২০১২ সালে নগরীর ২৬০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভুয়া’ উল্লেখ করে জামুকায় চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর মহানগরী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনে তার প্যানেল পরাজিত হয়। এ ক্ষোভ থেকে তিনি যাচাই-বাছাইকালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে নাম সুপারিশ করেননি। তিনি কমিটির অন্যদেরও প্রভাবিত করেছেন। সুপারিশ না পাওয়াদের একজন আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা তিনজন সহযোদ্ধাকে সাক্ষী হিসেবে কমিটির সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। কিন্তু কমিটি প্রথমে আমার কথা শুনেছে, এরপর একজন একজন করে সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছে। ভিতরে কী হয়েছে আমরা কেউ জানি না। অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। সাক্ষ্য আইনে এভাবে আলাদা সাক্ষ্য নেওয়ার কথা কোথাও নেই।’ তিনি বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত তার সামনেই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে। এটাই আইন। যাচাই-বাছাইকালে এ নিয়ম মানা হয়নি। তাই আমরা প্রকাশ্যে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে আবার যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানাচ্ছি।’

যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলীর বাবার নাম। সংবাদ সম্মেলনে রজব আলী বলেন, ‘জেনারেল ওসমানী আমার বাবাকে সনদ দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর রাবির জোহা হল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কমিটির একজন সদস্য তার নিজের সনদের সঙ্গে এসব মিলিয়ে দেখে আমাকে জানিয়েছেন সব সঠিক আছে। তার পরও আমার বাবার গেজেট নিয়মিত করার সুপারিশ করা হয়নি। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা পুনরায় যাচাই-বাছাই চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাচাই-বাছাই কমিটির একজন সদস্যই বিতর্কিত। যাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে সে তালিকায় তার নামই ২ নম্বরে ছিল। তিনি সেখান থেকে নাম কেটে কীভাবে যাচাই-বাছাই কমিটিতে চলে এলেন? এ প্রতিবেদন বাতিল করা না হলে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগরী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আবদুল আজিজ মাস্টার, এফ এ ফাউন্ডেশনের মহানগরী সভাপতি আলতাফ হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর