শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৫৭

উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, সিলেটে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, সিলেটে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
Google News

মহামারী করোনায় সিলেটে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রায় প্রতিদিনই এই মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম। স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারী হচ্ছে বাতাস। তারপরও সাধারণ মানুষের কাছে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ঝিমিয়ে পড়েছে প্রশাসনের তৎপরতাও। মৃত্যুর হার বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও করোনাভাইরাস ধরন পাল্টিয়ে আরও শক্তিশালী হওয়াকেই দায়ী করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০৮ জন। শুরুতে মৃত্যুর হার কম থাকলেও গেল মার্চ থেকে প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে থাকে। তবে চলতি মাসে মৃত্যুর হার আগের সব রেকর্ড ভাঙে। গত মার্চ মাসে সিলেট বিভাগে করোনায় প্রাণ হারান ১৩ জন। কিন্তু এপ্রিল মাসে মৃত্যুর হার বেড়ে যায় দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। চলতি মাসের গত ১৫ দিনে সিলেট বিভাগে করোনায় মারা গেছেন ১৮ জন। এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। হঠাৎ প্রাণহানি বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম জানান, করোনার নতুন স্ট্রেইন আগের চেয়ে অনেক ভয়ানক। আগে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে অনেক সময় নিত। উপসর্গগুলোও দৃশ্যমান থাকত। ধীরে ধীরে সংক্রমিত হওয়ায় চিকিৎসারও সুযোগ মিলত। এখন আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রথম অবস্থায় অনেকের কোনো উপসর্গই থাকে না। তাই আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন না সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি। যখন বুঝতে পারেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই মৃত্যুর হার বাড়ছে। মৃত্যুর সঙ্গে সিলেটে করোনা সংক্রমণও বাড়ছে ভয়াবহভাবে। গত বছরের  সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের কোটায় ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দুই সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। বর্তমানে প্রতিদিন সিলেট বিভাগে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন শতাধিক। একই সঙ্গে কভিড হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর চাপ। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিইউ, সাধারণ ওয়ার্ড ও কেবিন কোথাও সিট খালি নেই। তাই অনেকে ভর্তি না হতে পেরে ফিরে যেতে হচ্ছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডা. নূরে আলম শামীম বলেন, সিলেটে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা কম। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণ অনেকটা কমে আসত। কিন্তু মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। যারা মাস্ক পরিধান করছেন, তারাও সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন না। অনেকে পুলিশের বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে থুতনিতে মাস্ক আটকে রাখছেন। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ১৯০ জন। আর করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ১৪৪ জন। সিলেটে করোনায় প্রথম মারা যান সিলেট ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মঈনউদ্দিন। গেল বছরের ১৫ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আর গেল এক বছরে সিলেট বিভাগে করোনায় প্রাণ হারালেন ৩০৮ জন।

এই বিভাগের আরও খবর