শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৩

বাংলাদেশি কাঁকড়া-কুঁচিয়া নিতে প্রটোকল চায় চীন

নিশ্চিত করতে হবে রপ্তানি পণ্যের খাদ্য নিরাপত্তা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

করোনা ঝুঁকি এড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া নিতে প্রটোকল স্বাক্ষরের তাগিদ দিয়েছে চীন। ওই প্রটোকলে স্বাক্ষর করলে মৎস্যজাতীয় এই খাদ্য দুটি চীনে রপ্তানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ করতে হবে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সেটি করছে কি না তা নিশ্চিত করবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর।  সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রটোকলের খসড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।  দূতাবাসের বাণিজ্যিক উয়িং থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না কাস্টমস (জিএসিসি) বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই প্রোটোকল স্বাক্ষর করতে চায়। এ ধরনের প্রোটোকলের খসড়া পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তারা চীন থেকে প্রাপ্ত প্রোটোকলের কপিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। এর কোন শর্ত কতটা মানা যাবে- এ বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে চীনকে মতামত জানানো হবে। আর এ ধরনের প্রটোকল স্বাক্ষরের প্রস্তাবটি সরকার ইতিবাচকভাবেই দেখছে বলে জানান তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চাষ ও সংগ্রহের সঙ্গে দেশের খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও নোয়াখালীর প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জীবন্ত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় হয়। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে গত বছরের জানুয়ারি থেকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় মজুদ করা বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া ও কুঁচিয়া মারা যাওয়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে এ খাত। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত খুলনার সুন্দরবন অঞ্চলে চাষ করা কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি করা হয় চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ায়। উৎপাদিত কাঁকড়ার ৮৫ শতাংশই যায় চীনে। খুলনার ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই অঞ্চলে ৬ হাজার ৯৮৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছর ৭ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁকড়া চাষ সংকটে পড়ে। সম্প্রতি চীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া সংগ্রহ ও রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্তরা। এ অবস্থায় চীনের প্রস্তাবিত প্রোটোকল কী নতুন করে সংকটে ফেলবে দেশের সম্ভাবনাময় এই রপ্তানি খাতটিকে-প্রশ্ন এখন সেটিই। 

রওনক মাহমুদ বলেন, প্রোটোকল না হলেও চীনে জলজ পণ্য দুটি রপ্তানি চলমান থাকবে। তবে আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। শুধু চীন নয়, সারা বিশ্বেই আমরা কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণ করতে চাইছি। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য সক্ষমতা বাড়াতেই হবে। কারণ খাদ্য নিরাপত্তার শর্তগুলো নিয়ে এখন প্রত্যেকেই সচেতন।

যা আছে চীনের প্রোটোকলে : খসড়া প্রোটোকলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির জন্য বাছাই করা কাঁকড়া ও কুঁচিয়া ফার্মে চাষ করা না কি প্রাকৃতিকভাবে সংগৃহীত সেই তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। চাষের হলে কাঁকড়া ও কুঁচিয়ার প্রজনন ক্ষেত্র সম্পর্কে তথ্য থাকতে হবে। পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি চীনের কাস্টমস প্রশাসন (জিএসিসি) কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা জিএসিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া ও কুঁচিয়ার প্রজনন থেকে শুরু করে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি মেনে কভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য নিরাপত্তাজনিত আন্তর্জাতিক সব শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার শর্ত পরিপালন করছে কি না তা নিশ্চিত করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে তারা পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রজনন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে জলজ প্রাণী মারা গেলে অথবা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী অজানা কোনো রোগে মারা গেলে তা তাৎক্ষণিক জিএসিসিকে অবহিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর