বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

বাংলাদেশ এখন জ্বালাও-পোড়াওয়ের দেশ নয়

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ এখন জ্বালাও-পোড়াওয়ের দেশ নয়

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বলেছেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতি এবং সরকারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা। এ দুটি বিষয়েই ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে এবং তারই সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এখন আর কেউই হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও এবং দুর্ভিক্ষের দেশ মনে করে না। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির এ অদম্য গতি ত্বরান্বিত করতে দরকার বেশি বেশি বিনিয়োগ। প্রবাসীদের কাছে সে অনুরোধ জানাতেই আজকের এ রোড শো করা হচ্ছে।

‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার : পটেনশিয়াল অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ বিনিয়োগ সামিট ২৬ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল বার্কলে হোটেলের এম্পায়ার বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সালমান এফ রহমান ছিলেন সম্মানিত অতিথি এবং সামগ্রিক অবস্থার আলোকে নীতিনির্ধারণী মতও ব্যক্ত করেন। দুই পর্বে বিভক্ত এ বিনিয়োগ সামিটের প্রথমেই ছিল বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনা। বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের বদৌলতে দুর্নীতি অনেকাংশে কমেছে। বিশেষ করে টেন্ডারবাজি এবং টেন্ডার সাবমিটের সময় গোলাগুলি, খুনাখুনি, হানাহানি আর ঘুষ-দুর্নীতি ও দলপ্রীতির ঢালাও যে অভিযোগ ছিল তা এখন নেই বললেই চলে। বিশেষ করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলাদের মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা একেবারেই কমে এসেছে। তবে গ্রাউন্ড লেভেলে এখনো ঘুষ-দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে যা বলতে দ্বিধা নেই। প্রবীণ এই শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী সংগঠক আরও বলেন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য খুব বেশি না থাকলেও গণতান্ত্রিক চর্চা সঠিকভাবেই হচ্ছে। সবাই নিজ নিজ মতামত প্রকাশ করছেন। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায়ও সরব রয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। এভাবেই সঠিক ট্র্যাকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। সালমান এফ রহমান বলেন, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব সূচকেই বাংলাদেশের উন্নয়নের ঘটনাবলির স্বীকৃতি আসছে। এতে প্রবাসীদেরও অশেষ অবদান রয়েছে তা স্বীকার করছি অকপটে। এজন্য সব প্রবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, উন্নয়নে প্রবাসীরা এগিয়ে গেলে নিজেরাও লাভবান হবেন। কারণ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকারীরা ১০ বছরের জন্য ট্যাক্স মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারের সর্বস্তরে সহযোগিতার দিগন্ত প্রসার করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীর জন্য উইন উইন সিচুয়েশন বিরাজ করছে বাংলাদেশে। কক্সবাজারে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট নির্মাণের মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি মিরসরাইসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হাইটেক পার্ক, শিল্পনগরী স্থাপনের মহাযজ্ঞ চলছে। এসবে ইতিমধ্যে অনেকে বিনিয়োগে এগিয়ে গেছেন। আর যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিলিকন ভ্যালিতেও আরও তিনটি সম্মেলন হবে। এসবে অংশ নিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরাও এসেছেন। নিউইয়র্কের সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। সেখানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অর্থমন্ত্রী ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস লরেন্স হেনরি সামারস। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কর্মরত লরেন্সও গত ১২ বছরে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় উন্নয়ন-অভিযাত্রার ধারাবিবরণী দেন। এখনো যদি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদারচিত্তে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ। সামিটে অংশ নেওয়া প্রবাসের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একই মতবাদের সরকার দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকায় উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশের সঙ্গে বিনিয়োগের চমৎকার অবস্থা বিরাজ করছে। নানা কারণে বিনিয়োগের অর্থ ফিরিয়ে আনা নিয়েও অনেকের মধ্যে সংশয় ছিল। এখন তা কেটে গেছে। লভ্যাংশ ফিরিয়ে আনতে সরকার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই কমেছে। বিনিয়োগকারীরা সাবসিডি পাচ্ছেন, দেওয়া হচ্ছে ট্যাক্স রিবেট। এসব কারণে এখন হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের।’ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুর রৌফ তালুকদার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, বাণিজ্য সচিব তপনকান্তি ঘোষ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরও খবর