শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

ভর্তি হতেই বিলম্ব কমছে না মৃত্যু

হাসপাতালে যাওয়ার আগ্রহ কম, অনেক বেড খালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ভর্তি হতেই বিলম্ব কমছে না মৃত্যু

নওগাঁর গোলাম মোস্তফার হঠাৎই জ¦র এসেছিল। বাড়ির লোকজন প্রচলিত পদ্ধতিতে জ্বরের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। ভোর থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আনা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে ওয়ার্ডে নেওয়ার পথে মারা যান-বলছিলেন স্ত্রী লিপি খাতুন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। উত্তরের সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালটিতে এখন রোগী কমলেও মৃত্যু কমছে না। বরং জুনের মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ে। অথচ জুন মাসে যে রোগীর চাপ ছিল, তা এখন নেই। তারপরও মৃত্যু না কমার কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, দেরি করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায়, চেষ্টা করেও মৃত্যু কমানো যাচ্ছে না। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুরো জুন মাসে মারা গেছেন ৪০৫ জন। আর জুলাইয়ের ২৯ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জন। এরমধ্যে উপসর্গে মারা গেছে ৩৩৪ জন। জুন মাসে শয্যা সংকটের কারণে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে না গেলে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হতো না। অথচ এখন হাসপাতালে শয্যা খালি থাকছে। হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ৫১৩টি।  গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৪১৫ জন। এখন হাসপাতালে এলে কোনো রোগীকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। সবাই ভর্তি হতে পারেন। কিন্তু ঈদের আগে ও পরে থেকে হাসপাতালে এখন রোগীর চাপই কমে গেছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। আর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩২ জন। এখন প্রতিদিন যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই ভর্তি করার কম সময়ের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রাম থেকে রোগী আসছেন দেরি করে। ফুসফুস এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত থাকছে যে শেষ মুহূর্তে কিছু করার থাকছে না। রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, গ্রামের রোগীরা ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে, তখন আসছেন। এরপর হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা কিংবা আইসিইউ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। পরিচালক বলেন, মারা যাওয়াদের মধ্যে আবার বড় একটি অংশ বয়স্ক। এদের বয়স ৬০ বছরের উপরে। তাদের আরও অনেক রোগ থাকে। হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিক সমস্যা, কিডনি জটিলতা থাকে। আর অন্য রোগে আক্রান্তরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের ঝুঁকিটাও বেড়ে যায়। সিভিল সার্জন ড. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে হাসপাতালে যারা আসছেন, তারা বেশি খারাপ অবস্থায় আসছেন।

যার কারণে তাদের অক্সিজেন দিয়েও রিকভারি করা যাচ্ছে না। এ জন্য আমরা উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করাতে বলছি, যেন শরীরের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। সে জন্য উপজেলা পর্যায়েও এখন করোনার র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট হচ্ছে।’

মৃত্যু না কমার কারণ হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলছেন, ‘অনেকেই আক্রান্ত হয়ে খারাপ অবস্থাতেও বাড়িতে থাকছেন। মনে করছেন, ভালো হয়ে যাবেন। যখন তারা খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন হাসপাতালে আসছে। তখন তাদের বাঁচানো যাচ্ছে না।’

এই বিভাগের আরও খবর