মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

শখের বশে যৌথ বাগান

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শখের বশে যৌথ বাগান

ঠাকুরগাঁও সদর গড়েয়া ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম। শিক্ষকতার পাশাপাশি শখের বশে বাসার পাশে পতিত জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেঁপের যৌথ বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন মসলা- আদা, রসুন, হলুদ একই বাগানে চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। এলাকার কৃষকেরা এখন বাগান করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন সাদেকুল ইসলামের কাছ থেকে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া বাজার এলাকায় চোখ জুড়ানো এমন বাগান দেখতে এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন। শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম তিন বছর আগে শখের বশে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছু জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান শুরু করেন। বাগানে আশানুরূপ ফল হওয়ায় পরবর্তীতে সেখানে মাল্টা গাছের চারা রোপণ করেন। এখন তিন বছরের মাথায় তার একই বাগানে মাল্টা, পেঁপে, নারিকেল, আদা, রসুন, হলুদ চাষ করছেন। গত দুই বছর ধরে মাল্টার ফলন অনেক ভালো হওয়ায় এবং মাল্টা অনেক সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে বিক্রয় করে লাভবান হয়েছেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্চা, সেচ ব্যবস্থা ও জৈব সার ব্যবহারের ফলে বাগানের প্রতিটি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় যেমন ফল ধরেছে, তেমনি ড্রাগন ও পেঁপে গাছেও ঝুলছে ফল। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিতে এমন অভাবনীয় অবদান রাখায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরা তার কাছ থেকে নিচ্ছেন পরামর্শ। বাগানের এসব উৎপাদিত ফল জেলার চাহিদা পূরণে যেমন ভূমিকা রাখছে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।

এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাগানটি দেখতে অনেক সুন্দর। আর এই বাগানের মাল্টা অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু। তার সঙ্গে ড্রাগন ফল, আদা, রসুন, পেঁপে সব করেছেন তিনি। তার এই বাগান দেখে আমরাও বাগান করতে উৎসাহী। তাই সাদেকুল ভাইয়ের কাছে বাগান করার পরামর্শ নিতে এসেছি।

এলাকাবাসী জানায়, অল্প জমিতে একসঙ্গে এত কিছু আবাদ করা সম্ভব তা সাদেকুল ভাইয়ের বাগান না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।

শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, পতিত জমি ফেলে না রেখে সহজেই ফল বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররা এসব বাগান করে লাভবান হতে পারবে। ৬০ শতক জমিতে মাল্টা, পেঁপে ও ড্রাগন ফলের যৌথ বাগান করতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে মাল্টা, ড্রাগন, আদা, পেঁপে বিক্রয় করে ইতিমধ্যে আমার কয়েক লাখ টাকা আয় হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন বলেন, জেলায় এভাবে বাগান করে অনেকে লাভবান হচ্ছেন। তার সঙ্গে এই বাগানের ফল জেলার পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি অফিস থেকে সবসময় এসব কৃষককে সহযোগিতা করা হচ্ছে ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর