মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২ ০০:০০ টা

রংপুরে শিল্পবিপ্লবের হাতছানি

আগামী বছর শুরু হতে পারে গ্যাস সরবরাহ শিল্প প্লট কিনে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা

নজরুল মৃধা, রংপুর

রংপুরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এই অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে এখানে শিল্পবিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কবে সরবরাহ শুরু হবে এ আশায় বসে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত শত শত শিল্পোদ্যোক্তা প্লট কিনে গ্যাসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া থেকে পীরগঞ্জ হয়ে রংপুর ও সৈয়দপুর পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এই প্রকল্প ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। ১ হাজার ৩৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হবে এ প্রকল্পে। জিটিসিএল এখানে ১০ কোটি ৩ লাখ টাকা খরচ করবে। বাকি টাকা সরকার দেবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য ৩০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হুকুম দখল করা হয়েছে ৫৭৬ দশমিক ৩৭ একর জমি। ৩০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধে ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এই গ্যাস সরবরাহে ৬টি নদী ও দুটি খাল পাড়ি দিতে হবে। এসব নদী ও খালের দূূরত্ব আড়াই কিলোমিটার। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বরদিপুকুর এলাকায় দেখা গেছে গ্যাস সরবরাহ লাইনের কর্মযজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রংপুর বিভাগে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা আনন্দিত। রংপুরবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল এই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের। পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ হলে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা এবং বিসিক এলাকার শিল্প কলকারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি অর্থনীতির চালিকা শক্তিতে নতুন গতি পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। বাসা-বাড়িতে আপাতত গ্যস সরবরাহ নাও হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি প্রথম থেকেই শিল্প-কারখানার পাশাপাশি বাসা-বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা হোক। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় কারা কারা গ্যাস পাবেন এই বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত  নেবে।

 রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। দূর হবে দরিদ্রতার বৈষম। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে  সৈয়দপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে অনেক দেশি-বিদেশি  শিল্পোদ্যোক্তা শিল্প প্লট কিনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, গ্যাস এলেই এই অঞ্চলে শিল্পবিপ্লব ঘটবে। এ ছাড়া রংপুরে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় ১ হাজার একর জমির ওপর বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও রংপুরের সব উপজেলার শিল্প-কারখানায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর