শিরোনাম
শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩ ০০:০০ টা

সড়ক বিভাগের গাছ বিক্রিতে অনিয়ম

স্থানীয়দের তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ সামলাতে বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরীণ ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের ৫০৫টি গাছ বিক্রি করেছে সড়ক বিভাগ। ৩০ থেকে শত বছরের পুরনো রেইন্ট্রি, মেহগনি, সেগুন ও কড়ইসহ বিভিন্ন ধরনের গাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৩৭ লাখ টাকায়। সে হিসাবে একটি রেইন্ট্রি, সেগুন এবং মেহগনি গাছ বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ৪০৭ টাকায়। এই মূল্যকে স্থানীয়রা ‘বর্তমান বাজার দরের চেয়ে কম’ বলে অভিযোগ তোলে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা। এদিকে একই মহাসড়কের পাশের ৯ লট গাছ সম্প্রতি বিক্রি করে বন বিভাগ। তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেবেন না বলে জানিয়েছেন সামাজিক বন বিভাগের সদর উপজেলা রেঞ্জার আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মুহা. আবদুল আউয়াল।  নগরীর কাশীপুরের প্রবীণ বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম তৌফিক ফরাজী বলেন, এসব গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর। একেকটি গাছের বাজারমূল্য ১ লাখ থেকে ৩-৪ লাখ টাকাও আছে। সাড়ে ৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা অযৌক্তিক। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহফুজ বলেন, একটি গাছের মূল্য হওয়া উচিত লাখ টাকা।

সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং উদীচী বরিশালের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন গাছগুলো পানির দামে বিক্রির অভিযোগ তোলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বৃক্ষ পালন সার্কেলের নির্বাহী বৃক্ষ পালনবিদ মীর মো. আবু সাঈদ জানান, সার্ভে করে গাছের সংখ্যা ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়। যথাযথ দামে গাছ বিক্রি হয়েছে বলে দাবি তার। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত অক্টোবরে ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে সড়ক বিভাগ এবং বন বিভাগের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির টেন্ডার আহ্বান করে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ। নগরীর কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরান মোল্লা ও ইব্রাহীম ইফাদ বলেন, টেন্ডারে বিক্রির আগে সড়ক বিভাগ গাছগুলোতে লাল চিহ্ন দিয়েছে।

কিন্তু কাটার সময় লাল চিহ্ন ছাড়াও অনেক গাছ কেটে নিয়েছেন ঠিকাদারের লোকজন।

বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, তারা চাহিদা দিয়েছেন মাত্র। বিক্রি করেছে বৃক্ষ পালন সার্কেল। গাছ বিক্রিতে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর