প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে খুলনার রূপসা তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত স্লুইসগেট ও আউটলেটগুলো অকার্যকর হওয়ায় পানি শহরে ঢুকছে। রূপসাঘাট এলাকা, টুটপাড়া একাংশ, লবণচরা, দারোগাপাড়া, খানজাহান আলী রোড, গগনবাবু রোড, টিবি ক্রস রোড এলাকা প্রতিদিন দুবার প্লাবিত হয়।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, মতিয়াখালী ও লবণচরা খালের ওপর নদী সংযুক্ত স্লুইসগেট ও রূপসা মাছবাজারের পাশে খালের ওপর পাম্পহাউস নির্মাণ না হওয়ায় এ স্থান দিয়ে পানি শহরে প্রবেশ করে। লবণচরা আলুতলা পানি নিষ্কাশন গেটের জলকপাট ভেঙে পানি ঢুকছে শহরে। স্থানীয়রা বলছেন, জোয়ারের সময় খাল বা ড্রেন দিয়ে পানি ঢুকে শহরের নিচু এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় জলোচ্ছ্বাসে ভোগান্তি আরও বাড়ে। সে সময় অনেক স্থানে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, নির্মাণাধীন খুলনা শিপইয়ার্ড সড়কে একাধিক স্থানে নদী সংযুক্ত খালের স্লুইসগেট নির্মাণে পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সড়কটির কাজ ১৩ বছরেও শেষ না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রায় ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার ড্রেনেজব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে রূপসা মাছবাজারের পাশে নদী সংযুক্ত খালের ওপর একটি পাম্পহাউস নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু বিগত দিনে পাম্পহাউস নির্মাণকাজে পাঁচবার রিটেন্ডার হয়ে দুই বছর সময় ক্ষেপণ হয়েছে। এটি বানাতে কমপক্ষে এক বছর লাগবে।
সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন শহরের বড় চ্যালেঞ্জ। পরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থার অভাবে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। উপরন্তু জোয়ারের সময় উল্টো বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শহরে পানি ঢুকে ভোগান্তি তৈরি করে। ২২টি খাল দিয়ে শহরের পানি নির্বিঘ্নে বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে সমস্যার গভীরে কেউ যায়নি। গত সাড়ে তিন মাসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা এমন যে এখনই কাজ শুরু করলে তা শেষ করতে আরও এক-দেড় বছর লাগবে।’