শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২১:০৭
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২১:১০

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হাজারো শ্রমিকের গাদাগাদিতে চলছে কাজ

নরসিংদী প্রতিনিধি :

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হাজারো শ্রমিকের গাদাগাদিতে চলছে কাজ

নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না নরসিংদীর বেশ কয়েকটি কল কারখানা। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হাজার হাজার শ্রমিককে একত্রে নিয়ে গাদাগাদি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন চললেও নরসিংদীর পাঁচদোনায় মমটেক্স-১ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে তা মানা হচ্ছে না। ফলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন ওই প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকরা। এরই মধ্যে শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মমটেক্স-২ নামক অপর আরেকটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনাভাইরাস রোধে সারাদেশের গার্মেন্টসসহ সকল ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলেও পাকিজা গ্রুপের মমটেক্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠান তা দিচ্ছে না। উল্টো শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজ না করলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠান চালু থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন খুদ অ্যাডমিন ম্যানেজার বুলবুল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছে, এই মুহূর্তে দুই জন মানুষ একত্রে থাকা বিপদজনক। সে জায়গায় হাজার হাজার লোক একসাথে কাজ করা উচিত নয়। কারণ কারো জানা নেই, কে কিভাবে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। জানা যায়, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতে মাহামারী আকারে রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৩১ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লক্ষ ৭০ হাজারের মতো মানুষ। সে দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের মহামারী রোধে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন সরকার। একই সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানছেন না নরসিংদী পাঁচদোনা শীলমান্দ্রী এলাকায় অবস্থিত পাকিজা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মমটেক্স লিমিটেড। থ্রিপিস, শাড়ি-কাপড় ও বেডসিট উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানটিতে দুই সিফটে মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিকের অভিযোগ, আমরা এক একজন এক এক জায়গায় থাকি। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও বুঝার উপায় নেই। তাছাড়া আমাদের কারো কারো মধ্যে জ্বর ঠাণ্ডা ও হাঁচি-কাশি রয়েছে। তার উপর কারখানায় প্রবেশের সময় কোন প্রকার জীবাণুনাশক আমাদের দেয়া হয় না। এমনকি কারখানায় ব্লিসিংও দেয়া হয় না। আমরা প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। মমটেক্স-১ লিমিটেড কারখানাটির অপর শ্রমিক বলেন, আমাদেরকে এই সময়ে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজ না করলে আমাদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের করুন দশার খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা কারখানায় আসলে শ্রমিকদের স্ব স্ব ইউনিটে তালা বদ্ধ করে রাখে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তিনি আরো বলেন, এই কোম্পানির আরেকটি প্রতিষ্ঠান মমটেক্স-২ লিমিটেড। শুক্রবার রাতে সে কারখানার প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক আন্দোলন শুরু করে। পরে মহাসড়কে অবস্থান নিলে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ছুটিতে পাঠায়। কিন্তু আমাদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। সোরাব মিয়া নামে এলাকাবাসী বলেন, সারা দেশ লকডাউন। কিন্তু আমাদের এলাকায় সরব। কারণ পাকিজার মমটেক্স কারখানাটি বন্ধ করছে না। এখন তাদের কোন শ্রমিক থেকে যদি করোনাভাইরাস ছড়ায়, তাহলে আমাদের পুরো এলাকার মানুষ সংক্রমিত হবে। কারণ তারা ফ্যাক্টরি থেকে বেরিয়েই এলাকায় ঘুরাঘুরি করে । মমটেক্স-১ লিমিটেড এর অ্যাডমিন ম্যানেজার বুলবুল বলেন, সরকারিভাবে কারখানা বন্ধের কোন নির্দেশ নেই। আমাদের অল্প কিছু শ্রমিক ভয়লার মেন্টেনেন্স করছিল। কিছু কাপড় শুকানোর কাজ করছিল। শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মমটেক্স-২ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ছুটিতে যেতে চেয়েছিল। তাই তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। মমটেক্স-১ লিমিটেড এর শ্রমিকরা ছুটিতে যেতে চায় না। তাই তারা কাজ করছে। নরসিংদী করোনা সেল এর সদস্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ইমরুল কায়েস বলেন, আমার চেম্বার অব কমার্স এর নেত্রীবৃন্দসহ কারখানা মালিকদের সাথে বসেছি। সেখানে প্রতিটা ফ্যাক্টরিতে থারমাল স্ক্যানার, হ্যান্ড স্যানিটেসন ও হ্যাক্সসলসহ জীবাণুনাশক উপদান রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ রয়েছে। যে গুলো খোলা রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হবে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য