Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ মে, ২০১৯ ১৭:০৬

বিদেশের জীবন'টা কি আসলে'ই এতো'টা আলো-ঝলমলে রঙিন?

আমিনুল ইসলাম

বিদেশের জীবন'টা কি আসলে'ই এতো'টা আলো-ঝলমলে রঙিন?
আমিনুল ইসলাম (ফাইল ছবি)

ইউরোপ-আমেরিকায় থাকা আপনার বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের সুন্দর ছবি দেখে আপনারও নিশ্চয় বড্ড আলো-ঝলমলে বিদেশ জীবন পাবার ইচ্ছে হয়। 

বিদেশের জীবন'টা কি আসলে'ই এতো'টা আলো-ঝলমলে রঙিন? বোধকরি আমরা যারা বিদেশে থাকি, এদের দায়'টাই বেশি। আমরা এমন একটা ভাব করি- বিদেশে থেকে কি সুখে'ই না আছি!

আচ্ছা, আপনারা যারা ইউরোপ-আমেরিকায় থাকেন, আপনারা কি আপনাদের প্রবাস জীবনে আসলে'ই সুখী?
তাহলে আমি যে এতো এতো গবেষণা রিপোর্ট পড়লাম, সে গুলো কি সব মিথ্যে?

সেখানে তো বলা হচ্ছে- বেশিরভাগ প্রবাসী কিংবা মাইগ্রেন্ট তাদের বিদেশ জীবন নিয়ে সুখী না, নানান মানসিক সমস্যা'য় ভোগে এবং জীবনের একটা বিশাল এবং লম্বা সময় পর্যন্ত নানান বর্ণ বৈষম্যে'র মাঝ দিয়ে যায়!

এরপরও এতো আলো-ঝলমলে জীবনের একটা ছবি কেন আপনারা দেশে থাকা মানুষ গুলো'কে দেখান?

গবেষণা রিপোর্টের কথা বাদ'ই দিলাম। আমি নিজেই তো ১৭ বছর ধরে বিদেশে আছি।

আমি কি সুখী?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, আমি কেন দেশে ফেরত যাচ্ছি না। সে এক ভিন্ন আলোচনা। সেই আলোচনা'য় এই লেখায় যেতে চাইছি না। এই যে আপনারা ইউরোপ-আমেরিকায় থেকে সুন্দর একটা রেস্টুরেন্টে খেতে বসে ছবি আপলোড করেন ফেসবুকে, কিংবা চমৎকার একটা বাসার ড্রইং রুমের আড্ডা'র ছবি দেন; আপনার জীবন কি আসলে এমন? আপনারা কি আদৌ এতো আনন্দে'র আর সুখী জীবন কাটান?

নাকি সপ্তাহের ছয় দিন হোটেল-রেস্টুরেন্টে হাড় ভাঙা খাটুনি খেটে, চারপাশের অন্য সহকর্মীদের বকা-ঝকা শুনে, আর কবে দেশে যাবো, দেশের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার আর বর্ষার ঝনঝনানি শব্দ কিংবা কুয়াশা ঢাকা মেঠো পথের কথা মনে করতে করতে আপনাদের জীবন পার করেন? তাহলে কেন আপনারা বিদেশের জীবনে'র এই মিথ্যে সুখের ছবি তুলে ধরেন?

এই যে দুই দিন আগে ৩৭ জন মানুষ নৌকায় করে ইউরোপে ঢুকতে চাইল, রঙিন জীবনে'র আশায়; তাদের মৃত্যু'তে কি আপনাদের একটুও দায় নেই? 

এরা হয়ত আপনাদের এই সব মিথ্যে রঙিন জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে যে করে'ই হোক ইউরোপে আসতে চেয়েছিল। হয়ত ভেবেছিল যে করে হোক ইউরোপে ঢুকলে'ই জীবন রঙিন!

আসলে'ই কি তাই?

এরপর যে কি কঠিন জীবন অপেক্ষা করছে, সেটা কি আপনারা কখনো তাদের বলেছেন?

বলবেন কেন?

আপনি নিজে তো এখানে লেবারের কাজ করছেন কিংবা রেস্টুরেন্টে বসে পেঁয়াজ কাটছেন; আর দেশে গিয়ে এই আপনি'ই আবার রেস্টুরেন্টে কাজ করা ছেলেটাকে তুই তকারি করে বলছেন- ব্যাটা কাজ পারিস না!

শত হোক ইউরোপ ফেরত বলে কথা! রেস্টুরেন্ট বয়'কে তো যা ইচ্ছে তাই বলা'ই যায়! যেই ৩৭ জন মানুষ ডুবে মারা গেল, এরা প্রত্যেকে'ই দালালদের ৮-১০ লাখ টাকা দিয়েছিল।

এই টাকায় চাইলেই দেশে খুব সহজে'ই কিছু একটা করা যেত। বিদেশে আমরা যেই পরিশ্রম করি, সেই পরিশ্রমে'র অর্ধেক করলেও দেশে খুব ভালো ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব।

সমস্যা হচ্ছে, যারা ইউরোপ-আমেরিকায় থাকে, এরা আপনাদের সঠিক ছবি'টা দেয় না! এরা এমন একটা ছবি আপনাদের সামনে তৈরি করেছে, দেখে মনে হবে- আহা কতো সুখ ইউরোপে!

আর পরিবার-পরিজনের কথা ভেবে নিজের জীবন বাজি রেখে ইউরোপে ঢুকতে চাইছেন?

আপনাদের জানিয়ে রাখি, সপ্তাহ দুয়েক আগে সাইপ্রাসে এক বাংলাদেশি অবৈধ ভাবে ঢুকে সেখানে মারা গেছে। তার ভাই-বোন ইটালিতে থাকে অনেক দিন ধরে। সে নিজেও ইটালিতে যেতে চাইছিল।

তার মৃত্যু'র পর তার আপন ভাই-বোন, তার মরদেহ নিতে রাজি হয়নি। কারণ মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অনেক খরচ।

নিজের জীবন নিয়ে আগে ভাবুন। নিজে বাঁচলে'ই কেবল অন্যদের নিয়ে চিন্তা করা যাবে। আর বিদেশের যেই মিথ্যে রঙিন জীবন ইউরোপে-আমেরিকায় বসে আমরা প্রবাসী'রা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করি, জেনে রাখুন- ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে সেটা স্রেফ লোক দেখান রঙিন জীবন। বাস্তব'তা হচ্ছে- কেবল'ই ধূসর!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/১৫ মে ২০১৯/আরাফাত


আপনার মন্তব্য