শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১১

অস্তিত্ব সংকটে শোলাকিয়া ঈদগাহ

আন্দোলনে কিশোরগঞ্জবাসী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

অস্তিত্ব সংকটে শোলাকিয়া ঈদগাহ

প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ অস্তিত্ব সংকটে। মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের নামে শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য ও মর্যাদা নষ্ট করা হচ্ছে। শোলাকিয়া ঈদগাহ কি ‘ঈদগাহ’ পরিচয়েই থাকবে, নাকি ‘মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের’ নামে পরিচিত হবে- এমন প্রশ্ন কিশোরগঞ্জের মানুষের। শোলাকিয়া ঈদগাহ রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছেন কিশোরগঞ্জবাসী।

মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন শোলাকিয়া ঈদগাহকে বেছে নেয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ছাড়াই কয়েকদিন আগে প্রাথমিক কাজও শুরু হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেম-ওলামাগণ। গত ২৯ আগস্ট শহীদী মসজিদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সভায় শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টারটি অন্য কোথায় নির্মাণের দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের উদ্যোগে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা। সভায় যে কোনো মূল্যে শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিয়া মো. ফেরদৌস বলেন, ‘আইনে পৌরসভায় গরুর হাট থাকার সুযোগ নেই। গরুর হাটটি সরিয়ে সে জায়গায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা যেতে পারে।’ কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তাহের মিয়া বলেন, ‘তার মেয়াদকালে গরুর হাটটি ঈদগাহের জন্য হস্তান্তর করতে তিনি উদ্যোগ নিলেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’ মডেল মসজিদটি ঈদগাহের পাশের গরুর হাটে করাই উত্তম বলে তিনি মনে করেন। কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক শেখ সেলিম কবীর বলেন, খাস জমিতে বা জমি অধিগ্রহণ করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কথা রয়েছে। অথচ তা না করে শোলাকিয়া ঈদগাহের জায়গা দখল করা অন্যায়। আমরা তা মেনে নেব না। শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য রক্ষা করেই ঘরে ফিরব। কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য নষ্ট করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়ী থাকতে হবে। জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর