শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০২০ ২৩:১৭

নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষকরা ভালো নেই

নীলফামারী প্রতিনিধি

নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষকরা ভালো নেই

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মেলাবর গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে কৃষকদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নিরাপদ শাক-সবজি। স্থানীয়ভাবে এর নামকরণ করা হয়েছে নিরাপদ সবজি গ্রাম। সম্পূর্ণ জৈব প্রযুক্তিতে ওই গ্রামের কৃষকরা উৎপাদন করেন ১৬ ধরনের নিরাপদ ফসল। করোনা পরিস্থিতিতে ভোক্তা খেতে আসতে না পারায় সবজি গ্রাম ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। জৈব প্রযুক্তির ফসল বাজারে এনে তারা পানির দরে বিক্রি করছেন। সরেজমিন জানা যায়, শুধু জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক দিয়ে মেলাবর গ্রামের কৃষকরা শাক-সবজি আবাদ করেন। ভেষজ লতা-পাতা দিয়ে নিজেরাই তৈরি করেন বলাইনাশক ও জৈবসার। আশানুরূপ উৎপাদন, সচেতন ভোক্তার চাহিদা থাকায় হাঁসি ফুটেছিল চাষিদের। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে ক্রেতা না আসায় খেতেই নষ্ট হচ্ছিল ফসল। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে নিরাপদ সবজি বাজারে এনে বিক্রি করছেন অর্ধেক দামে।

 ফলে নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কৃষক প্রভাষ, বিষ্ণু, আবদুর রহিম জানান, করোনাভাইরাসের আগে সচেতন ক্রেতারা খেতে গিয়ে প্রতি কেজি দু-এক টাকা বেশি দরে সবজি কিনতেন। এখন খুচরা ক্রেতা ও পাইকার না আসায় করলা, বেগুন, শসা, টমেটো, মিষ্টিকুমড়া, ডাঁটা ও ঝিঙা বাজারে নিয়ে আগের চেয়ে অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করছি। বাজারে নিরাপদ সবজির নির্দিষ্ট দোকান না থাকায় জৈব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত সবজি বেশি দরে নিচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ওই গ্রামের ৩০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়ায় তারা জৈব প্রযুক্তিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকে জৈব প্রযুক্তিতে ফসল করার জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। করোনা দুর্যোগে নিরাপদ সবজিচাষিরা ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর