শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২০

লিগ্যাল এইডের সেবায় কমছে মামলাজট

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে লিগ্যাল এইডের সেবা। কোনো হয়রানি ছাড়াই লিগ্যাল এইডের  মাধ্যমে সেবা পাচ্ছেন জেলার পাঁচ উপজেলার কয়েক হাজার হতদরিদ্র অসহায় মানুষ। আদালত প্রাঙ্গণের ভিতর এসব সেবায় খুশি সাধারণ মানুষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে আদালতের মামলাজট দিন দিন কমছে। রাজবাড়ী লিগ্যাল এইড কার্যালয় সূত্রে জানা যায, গত বছর লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ২০৪টি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনের মধ্যে ১০১টি আবেদন সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়। যার মাধ্যমে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৪২৯ জন সুফল পায়। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন হতদরিদ্রদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ফৌজদারি, দেওয়ানি ও পারিবারিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য শতাধিক আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। গত বছর সফলভাবে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিকালে ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ৭০০ টাকা এডিআরের মাধ্যমে ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

লিগ্যাল এইড কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, আদালত প্রাঙ্গণের প্রবেশ পথে কিছুদূর সামনে অফিসটি অবস্থিত। সেখানে নারী, শিশুসহ সেবাপ্রার্থীদের আনাগোনা। পাশে রয়েছে একটি মুজিব বুক কর্নার। সেবা গ্রহীতাদের কথা শুনে পরামর্শ দিচ্ছেন সিনিয়র সহকারী জজ ও রাজবাড়ী জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সৈয়দ আবদুল্লাহ-আল-হাবীব। বালিয়াকান্দি গ্রামের আফরোজা খাতুন বলেন, তিন বছর আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বছরখানেক আগে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ার কারণে মামলার আশ্রয় নেই। সেখান থেকে মামলাটি লিগ্যাল এইড অফিসে জমা পড়ে। তিন মাসের মধ্যে উভয় পক্ষ লিগ্যাল এইড অফিসে বসে সমাধান পাই। 

উপকারভোগী গোয়ালন্দ উপজেলার মোজাম্মেল হক বলেন, আমার নামে আমার স্ত্রী খুলনার আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আমি হতাশ হয়ে পড়ি। পরে এক আইনজীবীর পরাশর্মে রাজবাড়ী লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করি। সেখানে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে মামলা নিষ্পত্তি হয়। দেনমোহর এবং ভরণপোষণ বাবদ টাকা দিয়ে আমাদের বিষয়টা সমাধান হয়। আমি বর্তমানে ভালো আছি। জেলার বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নায়েব আলী শেখ বলেন, অনেক সময় নারী-শিশুসহ দাম্পত্য কলহের ঘটনায় আসলে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় পরি। সেগুলো লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠিয়ে দিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমাধান হয়। এ ছাড়া অনেকের মামলা চালানোর মতো অর্থ না থাকলে সেখানে পাঠিয়ে দেই। বিনা পয়সায় তারা আইনজীবী পেয়ে থাকেন। জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড আনিছুর রহমান বলেন, রাজবাড়ীতে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনগত সেবার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। মামলাজট কমে আসছে। প্রান্তিক অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য এই অফিসটি খুবই কার্যকর। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ সৈয়দ আবদুল্লাহ-আল-হাবীব বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি মানুষের বিনামূল্যে আইনগত সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। জেলার কোনো দরিদ্র মানুষ যেন আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিকটি বিবেচনা করে এই অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া আদালতে দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলা আমাদের কাছে এলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। এতে করে আদালতের মামলা জট কমছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে সুবিধা পাচ্ছেন। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা বলেন, সব ধরনের মানুষের আইনগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে অনেক মামলাজট কমেছে। আমাদের জেলায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে চলছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর