শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৯

বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে বদলে যাবে নোয়াখালী

আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী

বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ওয়াপদা বাজার এলাকায় পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব আসবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম। এদিকে দ্রুত বিমানবন্দর বাস্তবায়নের দাবি জানান নোয়াখালী জেলাবাসী।

নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলে বদলে যাবে উন্নয়নের চিত্র ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা। এতে শিল্প সম্ভাবনা ও নিঝুম দ্বীপে দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়বে। অপর দিকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণ করার পর নোয়াখালী উপকূলে পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং ঢাকা-নোয়াখালী-হাতিয়া-চট্টগ্রাম রুটে বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচলের অনুমোদন দিলে বদলে যাবে বৃহত্তর এ জেলার দৃশ্যপট। নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে আসতে পারবেন  বিদেশি পর্যটকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক বিদেশি পর্যটক আসতে চাইলেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় আসতে পারছেন না।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের পর্যটন শিল্প। যদি নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হয় তাহলে প্রচুর  দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক আসতে শুরু করবেন। এতে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে উন্মোচিত হবে আরেক নতুন সম্ভাবনার দ্বার। প্রস্তাবিত জায়গায় পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ২০১৮ সনের ২২ জুলাই সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং বিমানবন্দর নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, নোয়াখালী থেকে অল্প সময়ে রাজধানী ঢাকা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আকাশপথে যাওয়ার জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর স্থাপন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর স্থাপন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান নোয়াখালীবাসী। এদিকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পক্ষ থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি সমীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এভিয়েশন অথরিটি কোনো ফান্ড না দেওয়ায় এ সমীক্ষা কমিটির কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিমানবন্দর সমীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. ইউছুফ মিয়া জানান, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি কোনো ধরনের ফান্ড না দেওয়ায় আমরা কাজ করতে পারছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ মোট সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি সমীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও অর্থনৈতিক ফান্ড না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে তিনি জানান। ফান্ড দিলে আমরা দ্রুত কাজ করব।  ১৯৯৫ সালে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী হতে ১৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ওয়াপদা বাজারের সন্নিকটে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পূর্বে চর শুল্যকিয়া নামক স্থানে সরকারিভাবে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বিমানবন্দরটি নির্মাণের জন্য তৎকালীন সময়ে কৃষি অধিদফতর বীজ সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৪০ একর জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। নির্মাণ সম্পন্ন হয় বিমানবন্দরের রানওয়ে, যেখানে প্রাথমিকভাবে খরচ হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় বন্ধ হয়ে পড়ে বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ। দুঃখের বিষয়, আজ পর্যন্ত ওই বিমানবন্দরটির নির্মান কাজ শেষ হয়নি, ফলে থমকে যায় নোয়াখালীর শিল্প সম্ভাবনা এবং পরবর্তীকালে সরকারি উদ্যোগে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও বেসরকারি উদ্যোগে অনেক এগ্রো বেইজড ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠে এ অঞ্চলে। তাই সাগরতীরের নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে সরকার। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আছে এ অঞ্চলের মানুষ যারা প্রতিনিয়তই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে করছেন সমৃদ্ধিশালী। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় নোয়াখালী অঞ্চলে প্রবাসীদের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। নোয়াখালীর এ প্রবাসীরা এখন রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে যাতায়াত করেন। বর্তমানে একটা বিষয় অবাক লাগে বিদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইটে ঢাকা আসতে সময় লাগে যেখানে ৩-৪ ঘণ্টা সেখানে তাদের ঢাকা থেকে নোয়াখালী আসতেই লাগে ৭-৮ ঘণ্টা। এতে তাদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি। প্রবাসীদের সিংহভাগ অংশ নোয়াখালীর বলে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হলে তারা সরাসরি বিদেশ থেকে নোয়াখালীতেই আসতে পারবেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর