শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৪

ভরাট হচ্ছে পুকুর ও খাল

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

ভরাট হচ্ছে পুকুর ও খাল
Google News

অবৈধ দখল ও দূষণের কবলে গলাচিপা পৌর খালসহ এলাকার প্রাচীন পুকুর ও জলাশয়। এক সময় শতাধিক পুকুর ও জলাশয় থাকলেও এর অধিকাংশই এখন অস্তিত্ববিহীন হয়ে পেেড়ছে। বর্তমানে যে কয়েকটি পুকুরের অস্তিত্ব রয়েছে তার পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এক সময়ের গলাচিপা শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রামনাবাদ নদী থেকে বদনাতলী, উলানিয়া বন্দরে লঞ্চসহ বিশাল আকারের নৌকা যাতায়াত করত। জলাধার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে গলাচিপা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এ খালে প্রথম বাঁধ দেয়। পানি যথাযথভাবে প্রবাহিত করতে না পারায় এটি এখন একটি আগাছায় পরিপূর্ণ একটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। যা অনেকটা বৃহদাকারের ডাষ্টবিনে রূপান্তর ঘটেছে। খোদ পৌর কর্তৃপক্ষ এ খালটিতে বর্জ্য ফেলে ভরাট করছে। দু’পাশের বাসিন্দারাও এর ব্যতিক্রম নয়। এ অবস্থা বিরাজ করায় জলাশয় সংরক্ষণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। গলাচিপা শহরের খাল সম্পর্কে পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন জানান, অনতিবিলম্বে এটি সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সরকারি যে কয়টি জলাধার এখনো ব্যবহার যোগ্য রয়েছে তা হলো, উপজেলা পরিষদের দিঘি, জেলা পরিষদের পুকুর, ভূমি দফতরের ৩টি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ও গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের ২টি। বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরগুলো দেদারসে ভরাট হয়ে গেছে। সে সব ভরাটকৃত স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা বাড়ি-ঘর। আগে যেখানে মানুষ একটু শীতল পরশ পেতে পুকুর পাড়ে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিত। সেখানে এখন ছড়াচ্ছে মরুভূমির উত্তাপ। এদিকে শহরের পুকুর ও জলাশয় ভরাট করার পর যে কয়েকটি এখনো টিকে আছে তাও ভরাট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।  কোনোভাবে শহরের কোথাও আগুন লাগলে সাধারণ মানুষকেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। এদিকে ফায়ার ব্রিগেড স্থাপন হলেও কেন চালু হয়নি এখনো এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর। তবে পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের রয়েছে প্রয়োজনীয় আইন। পরিবেশ অধিদফতরের মহানগরী, বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সব পৌর এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ সালের ৫ ধারা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে এ আইনের কোনো রক্ষকদের কার্যকরী ভূমিকা না থাকায় কেউ তোয়াক্কাই করছে না। ফলে তাদের ইচ্ছেমতো প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ভরাট করা হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধার।

এই বিভাগের আরও খবর