শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মে, ২০২১ ২৩:১৬

খাল খননে হাজারো কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুর প্রতিনিধি

খাল খননে হাজারো কৃষকের মুখে হাসি
Google News

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একটি খাল খননেই কয়েক এলাকার হাজারো কৃষকের মুখে হাসি। ফলে তিন হাজার বিঘা জমিতে অতিরিক্ত প্রায় ৭৫ হাজার মণ অতিরিক্ত ধান পাওয়া যাবে বলে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন। অথচ এক সময় ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের গতিপথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে পুকুর খনন করায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমিতে সারা বছর জলাবদ্ধতা থাকত। এতে সেখানে চাষাবাদ করা যেত না। ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনে একটি খাল খনন করায় এ বছর সেই জমিতে সোনালি ধান শীষ বাতাসে দোলা দিচ্ছে এবং কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক। স্থানীয়রা জানায়, ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর ইউপির লালপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দুর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বিঘা ফসলের মাঠ রয়েছে। এই ফসলের মাঠের পশ্চিম দিকে রয়েছে ছোট যমুনা নদী। বারাইপাড়া গ্রাম থেকে ছোট যমুনা নদীতে পানি নিষ্কাশনের খাল রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধায় ফসলের মাঠ থেকে বারাইপাড়া পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল নদী পর্যন্ত ৩০০ মিটারের একটি সংযোগ খাল না হওয়ায় এবং কিছু কিছু জায়গায় পানি নিষ্কাশনের গতিপথ বন্ধ করে পুকুর খনন করায় এই জলবদ্ধতা দেখা দেয় এলাকার তিন হাজার বিঘা ফসলি জমিতে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত ছিলেন ওই এলাকার হাজারো কৃষক। অবশেষে গত বছর ২৪ অক্টোবর তৎকালীন জেলা প্রশাসক, বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম নিজে স্থানীয় প্রশাসন, জন প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টনের নিরলস প্রচেষ্টায় এক দিনে ৩০০ মিটার ক্যানেল খনন করেন। এতেই নিরসন হয় ওই ফসলি জমিগুলোর জলাবদ্ধতার। ফলে দীর্ঘদিন পর এ বছর প্রথমবারের মতো সেই তিন হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো তিন হাজার বিঘা ফসলের মাঠজুড়ে এখন পাকা আধাপাকা ধানে ভরে গেছে।

কিছু কিছু জমিতে কিষান-কিষানিরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে। বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তাঁর গড়ে ২৫ মণ করে ধান হয়েছে। অথচ গত কয়েক বছর ধরে জলা বদ্ধতার কারণে একটি ফসলও তিনি পাননি। মাহদিপুর গ্রামের কৃষক সাইদুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন এসব জমিতে কোনো ফসল আবাদ না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা দিন দিন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছিল। তৎকালীন ডিসি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহোযোগিতার কারণে আজ অনেক কৃষক সেই ঋণের জাল থেকে মুক্তি পাবে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিন বিভিন্ন মহলে অনেক দেনদরবার করেও ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহামুদুল আলম এর সঙ্গে পরামর্শ করে খালটি খোঁড়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবশেষে গত বছর ২৪ অক্টোবর খাল খনন শুরু হয়। ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, সরকারের ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় সরকার ওইসব জমির পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেই ক্যানেল করা সম্ভব হচ্ছিল না। সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে। সে কারণে দুই ইউনিয়নের তিন হাজার বিঘা জমিতে এখন ব্যাপক ধান উৎপাদন হচ্ছে। খালটি পাকা করণের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর