শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জুলাই, ২০২১ ২২:৪৩

সুরমার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম

মাসুম হেলাল, সুনামগঞ্জ

সুরমার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম
ভাঙনের মুখে ইনাতনগর গ্রামের বিভিন্ন স্থাপনা
Google News

সুরমা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সদর উপজেলার ইনাতনগর গ্রাম। ঘরবাড়ি, জমিজমা হারিয়ে বাস্তুহারা হয়েছেন এ গ্রামের বহু মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে আশ্রয়। ভাঙনের কবলে পড়েছে গ্রামের ঈদগাহ, কবরস্থান প্রাচীন একটি মসজিদ।

দুই বছর আগে ভাঙন রোধে মসজিদ এলাকায় সরকারিভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হয়। তবে গ্রামটি রক্ষায় স্থায়ী উদ্যোগ না নেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। বসতবাড়ির অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে নাছিমা বেগমের। বর্ষায় ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। নাছিমা বলেন, অর্ধেক বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অর্ধেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। রাতে ভয়ে ভয়ে ঘুমাতে যাই-ঘুমের মধ্যে কখন যেন বাড়িঘর নদীতে চলে যায়। গ্রামের যুবক মইনুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের গ্রামের অর্ধশতাতিক ঘরবাড়ি সুরমার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়িসহ গ্রামের মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, ফসলি জমি। ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল উকিল বলেন, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডে ধরনা দিচ্ছি। বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা। দুই বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে কিছু বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোত সেগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল সবিবুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে স্থায়ী নদী শাসনের কাজের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করেছি। এটি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে সুরমা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, ইনাতনগরসহ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অন্য এলাকায়ও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রকল্প তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।