শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

১৭ কিমি সড়কে ভোগান্তির শেষ নেই

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৭ কিমি সড়কে ভোগান্তির শেষ নেই

চান্দুরা-আখাউড়া বেহাল সড়কের গর্তে আটকে পড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক। আখাউড়া স্থলবন্দরে যাতায়াতের বিকল্প ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে ১৭ কিলোমিটারে চলাচলকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। শুকনো মৌসুমে ভাঙাচোরা সড়কটি ধুলায় ধূসর হয়ে থাকে। বর্ষার সময় পরিণত হয় ডোবায়। ভারতে রপ্তানির জন্য সিলেটের জাফলং থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক এই সড়ক দিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে যাতায়াত করে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের সব জেলার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন ভারত ভ্রমণের উদ্দেশে আখাউড়া চেকপোস্টে যেতে। আর বিজয়নগরের ১০ ইউনিয়নের মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক হয়ে। সড়কের বেহাল দশার কারণে এলাকার কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে নিতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভোগান্তির সঙ্গে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিজয়নগর উপজেলার বেশির ভাগ অংশে উঠে গেছে পিচ। তৈরি হয়েছে ছোটবড় গর্ত। বিজয়নগরের খিরাতলা, আটখোলা, পত্তন, শ্রীপুর, নোয়াগাঁও, চম্পকনগর, পেটুয়াজুরী ও সাটিরপাড়াসহ কমপক্ষে ২০টি পয়েন্টে বর্তমানে বৃষ্টির পানি আটকে ডোবায় পরিণত হয়েছে। ইছাপুরা ইউনিয়নের পেটুয়াজুড়ি নামক স্থানে সড়কের পিচ-খোয়া উঠে অবস্থা এতটাই খারাপ যে সেখান দিয়ে গাড়ি চলাই দায়। পানি আটকে থাকায় রাস্তার কোথায় গর্ত সেটাই বোঝা মুশকিল হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ ও মেরামত কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কটি বেশি দিন টিকে না। এ ছাড়া ভারী যানবাহন ও পাওয়ার টিলার অবাধে চলার কারণেও নাজুক হয়ে পড়ে সড়কটি। সিএনজি অটোরিকশা চালক রহিম বলেন, এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। তখন যাত্রীদের নেমে গাড়ি ঠেলা দিতে হয়। এলজিইডির বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ভূইয়া বলেন, এই রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মারা যাওয়ায় এবং সরকারি ফান্ডে অর্থ না থাকায় সড়ক সংস্কার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।