মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

ফসল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

ফসল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা

মাচা বানিয়ে খেত পাহারায় কৃষক -বাংলাদেশ প্রতিদিন

কমলগঞ্জে বুনো শূকরের হানায় নষ্ট হয়েছে প্রায় ১ হাজার একর জমির আমন ধান ও সবজি খেত। এক মাস ধরে উপজেলার ছয়টি এলাকায় চলছে এ তান্ডব। পাকা ধান ঘরে তোলার সময় শূকরের এমন আচরণে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। এ অবস্থায় শূকর থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তারা। কৃষক জানান, লংগুরপার, দক্ষিণ বালিগাঁও, বাঘমারা, সরইবাড়ী, ভেড়াছড়া, ছাতকছড়ার ফসলি জমিতে লাউয়াছড়া বনের শূকর প্রতি রাতে হানা দেয়। পাকা ধান ও শীতকালীন সবজি খেতে শূকরের দল এসে নষ্ট করে ফেলছে। ধান, আলু, মুলা এমনকি কলা গাছসহ বিভিন্ন গাছ উপড়ে ফেলছে। শূকর তাড়ানোর চেষ্টা করলে উল্টো মানুষকে ধাওয়া দেয়। সারা দিন কাজ করে আবার রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হচ্ছে। পাকা ধান রক্ষায় মাঠে বাঁশ দিয়ে মাচা বানিয়ে শীত উপেক্ষা করে পাহারা দেন কৃষক। সঙ্গে রাখেন প্লাস্টিক ও টিনের তৈরি ড্রাম। কিছুক্ষণ পর শব্দ করে চিৎকার করেন, যাতে শূকর চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহির মিয়া বলেন, ‘শূকর আমাদের অনেকের ফসল নষ্ট করে ফেলছে। এ অবস্থায় প্লাস্টিক ও টিনের ড্রামের শব্দ করে রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হচ্ছে। এসব শূকর মানুষকেও আক্রমণ করে। এ কারণে উঁচুতে বাঁশের মাচা তৈরি করেছি, যাতে শূকর আক্রমণ করতে না পারে।’ একইভাবে মাচা তৈরি করে রাতভর ফসল পাহারা দিচ্ছেন কৃষক মুরাজ মিয়া, আবুল হোসেন, কৈইনুর, দুলাল মিয়া। ফসল কাটার আগ পর্যন্ত চলবে তাদের পাহারা। তবে বুনো শূকরের আক্রমণ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা কোনো উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পরিবেশবাদী মোহাইমিন মিল্টন বলেন, ‘বন উজাড় ও বনভূমি বেদখল হওয়ায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। আগে বন্যপ্রাণীরা এভাবে লোকালয়ে হানা দেয়নি, মানুষের কোনো ক্ষতিও করেনি।’ লাউয়াছড়ার বেদখল বনভূমি উদ্ধার করে প্রাণীদের জন্য বনজ গাছ লাগানোর দাবি জানান তিনি। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল বন রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যপ্রাণীর নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নেই। ফলে এরা খাবারের জন্য লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে বুনো শূকর ধান খেতে পছন্দ করে। পাকা ধান খাওয়ার জন্য মাঠে হানা দিচ্ছে শূকরের দল।’

সর্বশেষ খবর