তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীবেষ্টিত লালমনিরহাটের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে চোখে পড়ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। এসব জালে দেদার মারা পড়ছে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দেশি মাছের প্রজনন। অনেক প্রজাতি এখন বিলুপ্তির পথে। জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী, খাল, বিল ও ডোবা-নালায় প্রাকৃতিকভাবে হয় দেশি প্রজাতির নানা ধরনের মাছ। বর্ষাকালে এসব মাছ ডিম ও পোনা ছাড়ে এবং নিম্নাঞ্চলের জলাশয়ে বিচরণ করে। জলাশয়, নদী, ডোবা-নালা, খাল, বিলে কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল পেতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মাছ নিধন করছে। এসব জাল বসানোর কারণে মাছের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি পানি প্রবাহের পথেও বাধার সৃষ্টি করছে। নিষিদ্ধ এ জালে ধরা পড়ছে দেশি সব প্রজাতির মাছ। অবৈধ জালের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার দেখা যায় আদিতমারী উপজেলায়। এ ব্যাপারে মৎস্য বিভাগে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাতেও প্রতিকার মিলছে না জানান তারা। আদিতমারীর পলাশী ইউনিয়নের মাছ চাষি রফিকুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ছোকরাবান্দের দোলা নামে একটি জলাশয় লিজ নিয়ে দেশি মাছ চাষ শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘একদল লোক সেখানে নিষিদ্ধ জাল বসিয়ে মাছ নিধন করছে। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।’
জেলার শিয়াল খোওয়া গ্রামের আবদুস সালাম বলেন, স্থানীয় সতি নদী থেকে দেদার কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরছে অসাধু ব্যক্তিরা। বিষয়টি মৎস্য কর্মকতাকে জানিয়েও কাজ হয়নি। এক সময়ে দেশি মাছে ভরপুর সতি নদী থেকে এখন হারিয়ে যাচ্ছে মাছ। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, অবৈধ জালের কারণে দেশি মাছ দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। বর্ষা শেষে আর মাছ ধরা যায় না, তারা বেকার হয়ে পড়েন। সহজলভ্য হওয়ায় অনেকে এসব জাল কিনে নির্বিচারে ব্যবহার করছেন। আদিতমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আড়তে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল বিক্রি না করার জন্য নেওয়া হয়েছে মুচলেকাও। জলাশয়ে গিয়ে অভিযান চালানো জনবল সংকটের কারণে সম্ভব হয় না। লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, এক মাছ চাষির অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।