শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:২৯

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ অমান্য করায় বর ও বরের বাবাকে কারাদণ্ড

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ অমান্য করায় বর ও বরের বাবাকে কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরে বোয়ালমারীতে জরিমানা ও মুচলেকা দেওয়ার পরও বাল্যবিবাহ দেয়ায় বর ও বরের বাবাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিয়মিত মামলা দায়েরের সুপারিশ কনে ও কনের বাবার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার ১৬ বছরের কিশোরী কন্যাকে বাল্যবিয়ে দেওয়ার আয়োজন করায় ওই কিশোরীর বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এটি বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের চালিনগর গ্রমের ঘটনা। এ আদালত পরিচালনা করেছিলেন নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ। ওইদিন আদালতের কাছে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন করাবেন না মর্মে মুচলেকাও দিয়েছিলেন মেয়ের বাবা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট জরিমানা ও মুচলেকা দেওয়ার পরও ওই দিনই ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে গোপনে তা সংঘটিত হওয়ায় জানাজানি হয়নি। তবে মঙ্গলবার দুপুরে ছেলের বাড়িতে ঘোষপুর ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামে বউভাত (বিবাহত্তোর সংবর্ধনা) এর আয়োজন করায় বিষয়টি আবার নজরে আসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের। এ খবর শুনে মঙ্গলবার বরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বর ও বরের বাবাকে আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ইউএনও ঝোটন চন্দ। পরে সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে আদালত বসিয়ে ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বর আলামীন (২৪) কে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বরের বাবা এনায়েত হোসেন (৫৫) কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

তবে বরের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান পরিচালনাকালে কনের বাবাকে পাওয়া যায়নি। এজন্য আদালত কনের বাবা ও কনের বিরুদ্ধে আদালতের শাস্তি উপেক্ষা করে বাল্যবিয়ে দেয়ার দায়ে নিয়মিত মামলা গ্রহণের জন্য বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও ঝোটন চন্দ বলেন, আদালত অভিযান করে বাল্যবিবাহের আয়োজন ঠেকানোর পরও এ বিয়ে দিয়ে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছে ওই দুটি পরিবার। এজন্য বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য