শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৫৬

বরগুনায় ছাগলের খামার করে স্বাবলম্বী রাজিব

বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনায় ছাগলের খামার করে স্বাবলম্বী রাজিব

কোনো ধরনের ব্যাংকিং সহায়তা না নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিন করুনা গ্রামের যুবক রাজিব (৩২)। শখের বসে বাড়ীর সামনে রাস্তার পাশে ২০১২ সালে দেশী ৮ ছাগল পালন শুরু করেন রাজীব। পাশাপাশি পাকা অবকাঠামো তৈরী করে দেশী বিদেশী গরুর খামারও করেন। 

৫০-৬০টি গরুর খামারের পাশাপাশি ছাগলের খামারে ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

রাজিব বলেন, শখের বসে যখন ৮ টি ছাগল পালন শুরু করি তখন একই সাথে গরুর খামারও শুরু করি। গরুর খামার লাভজনক ভেবে মোটা অংকের মূলধন বিনিয়োগ করি। এক পর্যায়ের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ায় গরুর খামারে চিন্তা বাদ দিয়ে গরু বিক্রি করে দেই। বর্তমানে ৭/৮ টি গরু নিজস্ব দুধের চাহিদা মিটানোর জন্য রয়েছে। রাজিবের ছাগলের খামারে বর্তমানে বিভিন্ন জাতের ছাগলের মধ্য রয়েছে, তোতাপুরী, বিটন, শিরোহী, যমুনাপাড়ি, ব্লাক বেঙ্গলসহ ৬/৭ জাতের ছাগল। 

খামারে আনা হয়েছে ভারতের রাজস্হান থেকে উন্নত জাতের তোতাপুরী পাঠা। রাজিব বলেন,ব্যাংক ঋণ পেতে হয়রানীর শিকার হতে হয়, বিভিন্ন ধরনের কাগজ না দিলে ঋণ দেয়া হয় না, যার জন্য ব্যাংকের সহায়তা না নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে বেশী মুনাফায় ঋন নিয়ে খামার চালাচ্ছি। প্রতিমাসে ঋন পরিশোধ কর্মচারী বেতন এবং ছাগল চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা ব্যয় হচ্ছে। 

দুজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় রয়েছে খামারটির। রাজিব বলেন, কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বেতাগী যাবার পথে আমার খামারটি দেখে খুশী হয়েছেন। ওখানে বসেই স্যার বেতাগীর ম্যানেজারকে বলে দিয়েছেন, দ্রুত আমাকে চাহিদা মত ঋণ দেবার। ঋণ পেলে আমার খামারের পরিধি আরও বাড়াবো। রাজিব বলেন, ছাগলের খামার একটি লাভ জনক ব্যবসা। ইতোমধ্যে তার দেখাদেখি অনেকে এই গ্রামে ছাগল পালন শুরু করেছেন।

রাজিব দুঃখ করে বলেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রায়ই আমার খামারের খোঁজ নিলেও বেতাগী উপজেলা কর্মকর্তা কিংবা ভেটানিক্যাল সার্জন এখন পর্যন্ত খামারে আসেননি। প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোন সহযোগীতা না পেলে ছাগলের বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে চিকিৎসা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকদের মাধ্যমেই করাতে হচ্ছে। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুল ইসলাম, বলেন, রাজীবের ছাগলের খামারটি আমি দেখেছি এবং প্রায়ই খোঁজ নিচ্ছি পরামর্শ দিচ্ছি। বরগুনায় ছাগলের খামার একটি লাভজনক ব্যবসা। আমরাও উৎসাহ দিচ্ছি যাতে লোকজন ছাগল খামারে উৎসাহ হয়।  

কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক মূখ্য ব্যবস্থাপক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, রাজীবের ছাগলের খামারটি আমি পরিদর্শন করেছি। তার উৎসাহ এবং খামারের পরিবেশ সন্তোষজনক মনে হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক ভাবে বেতাগীর ব্যবস্থাপককে বলে দিয়েছি, দ্রুত রাজিবের ছাগলের খামারে জন্য ঋণ দেবার জন্য। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর