শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৩৫
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৪৪
প্রিন্ট করুন printer

সবুজ করলায় কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

সবুজ করলায় কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাইব্রিড টিয়া জাতের করলা চাষ করে তিনগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন লিটন। তার সেই স্বপ্ন দুলছে করলার মাছায়। এ যেন সবুজ করলায় রঙিন স্বপ্ন।

লিটন এবার ৪০ শতক জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড টিয়া করলা চাষ করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে মাঠে বীজ রোপণ করেছিলেন। মার্চ মাসে গাছে ফুল আসে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফসল তোলা শুরু করেছেন। এক মাসে প্রায় ১ হাজার কেজি করলা তিনি বিক্রি করেছেন। এভাবে একটানা আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনি করলা বিক্রি করবেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাছায় শতশত করলা ঝুলে আছে। গাছের যে দিক থেকে করলা পাড়া হয়েছে, সে দিকটায় আবার নতুন করে ফুল আসছে। ফলন হয়েছে বাম্পার। করলার আকারও অনেক বড়।

লিটন জানান, এভাবে ফলন হবে তিনি আগে ভাবেননি। গাছ থেকে প্রথম নামানো ৭৬ কেজি করলা তিনি ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। দ্বিতীয় দাপে ২৫০ কেজি করলা বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, তৃতীয় ধাপে ১৭৪ কেজি  করলা বিক্রি হয়েছে ৩৪ কেজি টাকা দরে। আর চতুর্থ ধাপে ৭৫ কেজি ও পঞ্চম ধাপে ১৪৯ কেজি করলা বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি দরে।

করলা মাঠে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকার করলা। গাছে ঝুলছে আরো ৫ শত কেজি করলা। এগুলো বিক্রি করে তিনি কম করে হলেও ১২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। খরচ বাদে এখনই তার ২৭ হাজার ৫০০ টাকা লাভ হয়েছে। আগস্ট মাস পর্যন্ত সব মিলিয়ে তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

জানা যায়, হাইব্রিড টিয়া জাতের করলা শুধু শীতকাল ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। জমিতে পানি নিষ্কাশন সুবিধা আছে এমন এটেল দোআঁশ, দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি এই করলা চাষ উপযোগী। প্রতি শতাংশ জমিতে ৮ থেকে ১০ গ্রাম বীজ লাগে। বীজ বপনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি শতাংশে ফলন হয় ১০০ থেকে ১২০ কেজি। একেকটির ওজন ৭৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এই করলা খেতে মৃদু তিতা ও সুস্বাদু।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর