শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০২১ ১৬:৫১
প্রিন্ট করুন printer

বগুড়ার সান্তাহার-জয়পুরহাট সড়ক বেহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার সান্তাহার-জয়পুরহাট সড়ক বেহাল
Google News

বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার-জয়পুরহাট সড়কের ছাতিয়ানগ্রাম অংশে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটির পিচ পাথর উঠে গিয়ে এবড়ো থেবড়ো, উচুঁ নিচু হয়ে যায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বাহিরের জেলার ট্রাক, সিএনজি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ার মত ঘটনাও ঘটছে। এতে সড়কে যেমন ঘটছে দুর্ঘটনা তেমনি যানজট লেগেই থাকছে। আঞ্চলিক সড়কটি দিয়ে বগুড়ার সান্তাহার থেকে সরাসরি জয়পুরহাট জেলার সাথে প্রতিনিয়ত চলাচল করে অর্ধলাখ মানুষ। এই চলাচলকারিদের দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটি সংস্কারের দাবী জানিয়েছে।  

জানা যায়, বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে জয়পুরহাট জেলার তিলকপুর, আক্কেলপুর, জামালগঞ্জ, জাফরপুর হয়ে জয়পুরহাট জেলা সদরে যাতায়াত করে। সড়কটি আঞ্চলিক হলেও দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কৃষিপণ্য পরিবহনে সড়কটি রাখে ভূমিকা।

এই সড়ক সংস্কার করা না হলে এলাকবাসিকে আরো প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে জয়পুরহাট জেলার সাথে যোগাযোগ করতে হবে আবার সান্তাহারে পৌঁছাতে জয়পুরহাটবাসিকে ভিন্ন উপায়ে আসতে হবে। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটির সংস্কার বা মেরামত কাজ না করার কারনে সড়কের বগুড়ার সান্তাহারের ছাতিয়ানগ্রাম অংশে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এই অংশে রাস্তার একাধিক জায়গায় পাকা অংশ ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভা অংশ থেকে ছাতিয়ানগ্রাম বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তাটির বেশীর ভাগ জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই গর্তের মধ্যে যানবাহন পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে চালকরা। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি ছোট বড় যানবাহন উল্টে পড়েছে। যাত্রীরাও আহত হয়েছে। সিএনজি চালকরা এই সড়কে যাতায়াতে অতিরিক্স ভাড়া চাইছে।

মাঝে মধ্যেই ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ি এলাকায় ছোট বড় যানবাহন উল্টে পড়ে যানজটও সৃষ্টি করছে। অনেক সময় সড়কের উপর আড়াআড়িভাবে পড়ে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। উভয় জেলার পথচারিদের তখন দুর্ভোগে পড়ে যায়। মাত্র ৪ কিলোমিটার বেহাল থাকায় এলাকাবাসির দুর্ভোগের শেষ নেই। চার কিলোমিটার পথ পারি দিলে জয়পুরহাট জেলার অংশে সড়কটি পরে যায়। সীমানা এলাকা হওয়ার কারণে সহজে মেরামতও হচ্ছে না। এ কারনে প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে  ট্রাক, ট্যাক্সি, রিক্সা ও ভ্যানসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি অযোগ্য হয়ে পাড়ায় সান্তাহার থেকে জয়পুরহাটগামী যানবাহনগুলি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

এছাড়াও সান্তাহার থেকে তিলকপুরগামী বেবি ট্রেক্সিগুলো পূর্বের ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণভাড়া দিতে চাইলেও তারা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে না। ফলে যাত্রী সাধারণকে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। বর্তমানে সড়কটি যে বেহাল দশা হয়েছে তাতে করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার না করা হলে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে এ এলাকার চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহন নিয়ে চরম বিপাকে পড়বে।
সন্তাহার থেকে জয়পুরহাটের ৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে একমাত্র সড়কটি বেহাল হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসি দ্রæত সংস্কার দাবী করেছে। 

সড়কের পথচারি মো. সোহেল জানান, সড়ক দিয়ে চলাচল খুবই কষ্টসাধ্য। সড়কে গর্ত থাকায় সিএনজি, রিক্সা সহজে চলাচল করতে চায় না। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কটি দিয়ে বড় মালবাহি ট্রাক চলাচল করতে পারে না। মাঝে মধ্যেই যানবাহন উল্টেও যায়। 

বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, সড়কের সংস্কার করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে সড়কের কাজ শুরু হবে। তবে যানবাহন চলাচলের জন্য আপাতত গর্তে ইট ফেলে চলাচলের উপযোগি করে দেওয়া হচ্ছে। বর্ষাকালের জন্য সেসবও ভাল করে টিকছে না। উপজেলা পরিষদ থেকে আপাতত বর্ষাকালে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন