২২ নভেম্বর, ২০২১ ১০:৩৯

আগাম আলু তুলতে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা

নীলফামারী প্রতিনিধি

আগাম আলু তুলতে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা

নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা আগাম আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলন একটু কম হলেও চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হবেন এমনটাই আশা করছেন আলু চাষিরা। দেশের বাজারে এই প্রথম নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। এ আলু ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সরবরাহ করা হয়। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি জয়নোনের কোট গ্রামের আলু চাষি আনোয়ারুল ইসলাম ৪ বিঘা ও একই এলাকার হাড়িবেচা পাড়া গ্রামের মমিনুর রহমান ২ বিঘা জমির আগাম আলু উত্তোলন করেছেন। এ সময় কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বরাবরের মত চলতি বছর আমি ৩৫ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। এর মধ্য ৪ বিঘায় লাগানো ছিল আগাম জাতের আলু। ৫৫ থেকে ৬০ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতে আলু লাগানোর পর ৬১ দিনের মাথায় আলু তুললাম। জমিতে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। ৪ বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ বস্তা আলু হবে। 

অপর কৃষক মমিনুর রহমান জানান, ২ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি ভালো দামের আশায়। তবে জমি উঁচু হওয়ায় আশ্বিনা বৃষ্টিপাতে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। এখন সেই জমির আলু তুলছি। যা ১০ থেকে ১২ বস্তা আলু হবে। এতে খরচ বাদে দ্বিগুণ টাকা আয় হবে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগাম আলুর মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় কারণে আগাম আলু চাষিরা বিপাকে না পড়লে ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ জমির আলু বাজারে চলে আসত। এখন আলু তোলা শুরু হয়েছে।

আর ক’দিন গেলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে আলু উত্তোলন শুরু হবে। তবে বাজার দর ঠিক থাকলে আলু চাষিরা লাভবান হবেন। আলু উত্তোলনের পর ওই জমিতে পুনরায় নমলা আলুসহ  সাথী ফসল হিসেবে ভুট্রা, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচামরিচ ও শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ফসলগুলোতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষকরা ভাল দাম পেলে আগামীতে আগাম আলু চাষে উৎসাহিত হবেন। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর