প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৪

ঈদগাহে জঙ্গি হামলা

হামলাকারীরা ইসলামের কেউ নয়

ঈদগাহে জঙ্গি হামলা

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের সন্নিকটে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে জঙ্গি নামের দুর্বৃত্তরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলিতে এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হয়। আহত হয় ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন।  ঈদের জামাত শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘণ্টা আগে নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। সন্দেহ করা হচ্ছে, শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ছিলেন জঙ্গিদের লক্ষ্য। জঙ্গিবিরোধী ফতোয়া দেওয়ার জন্য তিনি ধর্মের ভেকধারী দুর্বৃত্তদের আক্রোশের শিকার হলেন। ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলার ঘটনা প্রমাণ করেছে ধর্মের নামে যে সন্ত্রাসী তত্পরতা চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে শান্তির ধর্ম ইসলামের দূরতম সম্পর্কও থাকার সুযোগ নেই। কোনো নিষ্ঠাবান মুসলমানের পক্ষে ঈদের জামাতকে হামলার টার্গেট করা সম্ভব নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ হত্যা কবিরা গুনার শামিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাউকেও অন্যায়ভাবে হত্যা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অন্যায়। বিশ্বাসীদের ওপর হামলায় গুনার মাত্রা যে আরও বিস্তৃত হয় তা সহজে অনুমেয়। গুলশান হামলায় নিহত পাঁচ জঙ্গির একজন মাদ্রাসার ছাত্র হলেও বাকি তিনজন ইংরেজি মাধ্যম এবং একজন সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। শোলাকিয়ায় হামলাকারী নিহত এক জঙ্গি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে, চার মাস ধরে সে নিখোঁজ ছিল। গুলশানের পর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এ দুই হামলা শান্তির ধর্ম ইসলামের জন্যও বিড়ম্বনা ডেকে এনেছে। মাহে রমজানে রসুল (সা.)-এর নামাঙ্কিত মদিনার পবিত্র মসজিদে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এজন্য বেশ কিছু পাকিস্তানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খেলাফত প্রতিষ্ঠা বা জিহাদের কথা বললেও কোনো মুসলমানের পক্ষে মসজিদে নববীতে হামলা চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হামলাকারীরা মুসলিম পরিবারের সন্তান হলেও জঙ্গিবাদের মগজ যে অশুভ কোনো শক্তির কাছে বাঁধা তা সহজেই অনুমেয়। ইসলামের সুনামের স্বার্থেই বিশ্বাসী সব মানুষকে জঙ্গি নামের নোংরা দৈত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।


আপনার মন্তব্য