Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৪

বিশ্বে শান্তি ফিরে আসুক

তাজনাহার মিলি

বিশ্বে শান্তি ফিরে আসুক

পৃথিবীতে আজ নিত্যনতুন সব আছে। অত্যন্ত সহজলভ্য সুইচ টিপলেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া। শুধু আজ শান্তি ধরে রাখার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তাই যদি পৃথিবীর প্রতিটি দেশপ্রধান পাল্লা দিতেন শান্তি কে কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। মানবসৃষ্ট সন্ত্রাস ও সংঘাত-যুদ্ধ মানবাধিকার লুণ্ঠিত করছে চরমভাবে। আজকের মানব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে অনিশ্চয়তা দূর করতে জোরেশোরে মানুষের অধিকারের প্রতি দলমত নির্বিশেষে সম্মান দেখাতে হবে। তাহলে আসবে শান্তি, সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন। বিশ্বপরিবারের সবাই বিশ্বায়নের সুবিধায় একে অন্যকে সহযোগিতা-সাহায্যের মাধ্যমে শান্তির সুফল ধরে রাখা সম্ভব। দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নের সব সুফল সবার নিয়ন্ত্রিত ভোগের ব্যবস্থা করতে পারলে শান্তি আসবে। পৃথিবীটা তো সবার, তাকে রক্ষার দায় তাই সবার ওপরই পড়ে— সে ক্ষুদ্র পিঁপড়া থেকে উন্নত জীব মানবগোষ্ঠী পর্যন্ত। ক্ষণস্থায়ী নিজ স্বার্থের জন্য অশান্তি-দুঃখ-কষ্ট জেঁকে বসেছে। শান্তি তো চেয়ে বসে থাকলে চলে না তার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে সবার জন্য প্রতিটি দেশেই কাজ করা উচিত। সবাই স্বস্তি-শান্তিতে থাকলে আমিও থাকব। সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যই সংঘাত-দ্বন্দ্ব এড়িয়ে শান্তির পথে চলতে হবে ত্যাগের মহিমায়। গত ১০ বছরের শান্তির পথ কী? কোথায়? তা একবাক্যে বলা মুশকিল। কোনো একটা আন্দোলনের শিকড় তো সীমাহীন ক্ষমতাধরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলতে থাকা এক সংগঠিত প্রতিরোধ। আগামী প্রজন্মকে একটা সুস্থ ভবিষ্যৎ দিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান সমাজ আক্রান্ত শিশুদের রক্ষার দায় আমাদের। অন্যদের দুষ্ট কাজের দোষারোপ করে শান্তির উদ্যোগ নিয়ে, নিজে সে দোষে দোষী হয়েও শান্তি স্থাপনের কথা মুখে বললে তো হয় না। অশান্তির চালিকাশক্তির গায়ে ভর করে মুখে ভালো কথায় কী আসে যায়? জঙ্গি-উগ্রবাদী বলে আখ্যায়িত করে কর্তব্য শেষ করলে চলবে না। সহানুভূতির সঙ্গে মূল দাবিগুলো, কারণগুলো চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে যেতে আন্তরিক হলেই সমস্যার সমাধান শান্তি। পাক-ভারত যুদ্ধ উন্মাদনা, পুতিনের পূর্ব ইউরোপ পরিকল্পনা, আইএসবিরোধী বিশ্বশক্তির দ্বন্দ্ব ও দক্ষিণ চীন সাগর সংকট স্নায়ুতে বড় চাপ বাড়িয়েছে। এ সংকটগুলো কি মানবসভ্যতাকে শান্তি থেকে ভয়াবহ অশান্তির বিশ্বযুদ্ধের হাতছানি দিচ্ছে? ভারত ও পাকিস্তানের দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে দ্বন্দ্ব সম্প্রতি নিহত ১৯ সেনা। ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসন পূর্ব ইউরোপে। মধ্যপ্রাচ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বন্দ্ব বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি অবস্থান দক্ষিণ চীন সাগর কেন্দ্র করে। তাহলে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী বোমায় মানবসভ্যতা তীব্র সংকটে পড়বে। অশান্তির দাবানল থেকে, এই স্নায়ু উত্তেজনা থেকে আমাদের বেরোনোর পথ চাই। অশান্তি জীবনের একমাত্র সত্য হতে পারে না। সমাজ তোমায় ভাবতে হবে শান্তি নিয়ে। সারা পৃথিবীর মানুষ যদি সচেষ্ট হয় শান্তির রংবেরঙের সুতায় গাঁথা সমৃদ্ধ সমাজকে একসঙ্গে গাঁথবে। সাম্য-সমতা শুধু কিতাবে রাখলে হবে না জীবনের প্রয়োজনে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করে শান্তি স্থাপন করা উচিত।

বিশ্ব মানবধর্ম কোথায় পৃথিবীতে আজ? মুখে নয় কর্মে, হৃদয়ে ধারণ করে কাজ করতে হবে। সত্য ও মানবধর্ম দিয়ে জীবনে ত্রাস ও শঙ্কার বাইরে গিয়ে স্বস্তি ও শান্তি ফিরিয়ে দিন। বাস্তবের নিষ্ঠুর চাবুকও কাউকে ছাড়বে না।

লেখক : প্রাবন্ধিক


আপনার মন্তব্য