শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৪২

অনন্য এ আবিষ্কার

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. চিস্তিকে অভিনন্দন

অনন্য এ আবিষ্কার

ঘাতক নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশি এক চিকিৎসক আবিষ্কার করেছেন অসামান্য এক পদ্ধতি। লাখ লাখ টাকা দামের ভেন্টিলেটরের বদলে মাত্র কয়েক টাকা দামের অতি সাধারণ যন্ত্রের সাহায্যে আক্রান্ত শিশুদের কৃত্রিমভাবে শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতির আবিষ্কার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের একজন সাবেক চিকিৎসক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহার করেছেন শ্যাম্পুর বোতল থেরাপি। শ্যাম্পুর বুদবুদ থেকে সৃষ্ট চাপ শিশুর ছোট বায়ু থলিগুলোকে খুলে রাখতে সাহায্য করে। বিবিসি বাংলায় চাঞ্চল্যকর এ আবিষ্কারের তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিস্তি সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষানবিস চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম রাতেই তিনি চোখের সামনে দেখেন তিনটি শিশুর মৃত্যু। নিজেকে এত অসহায় মনে হয়েছিল যে, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ওই শিশুদের বাঁচাতে না পারার ব্যর্থতায় কেঁদেই ফেলেছিলেন। নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যেভাবেই হোক নিউমোনিয়া থেকে শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করবেন। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর প্রায় নয় লাখ ২০ হাজার শিশু মারা যায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে ফুসফুস ফুলে ওঠে, ভরে ওঠে পুঁজ বা তরল পদার্থে, যা অক্সিজেন গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে ও নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। উন্নত দেশগুলোর হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাদের ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেই যন্ত্রগুলোর প্রতিটির দাম ১৫ হাজার ডলার এবং যন্ত্র চালানোর জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের হাসপাতালে এ ধরনের ব্যয়বহুল চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ডা. চিস্তির পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের যন্ত্রের মাধ্যমে অল্পমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের চেয়েও তার আবিষ্কৃত বাবল সিপিএপি যন্ত্রের সাহায্যে চিকিৎসা করালে এ ঘাতক রোগে শিশু মৃত্যুর হার অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।  বাংলাদেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানীর এই উদ্ভাবন দুনিয়ার লাখ লাখ শিশুর জীবন রক্ষায় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের এ কৃতী চিকিৎসাবিজ্ঞানীকে আমাদের অভিনন্দন।


আপনার মন্তব্য