Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৮

আশুরা সব নবী রসুলের আমলে স্মরণীয় ছিল

মুহম্মদ ওমর ফারুক

আশুরা সব নবী রসুলের আমলে স্মরণীয় ছিল

আশুরার দিনে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেছিলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লামের প্রিয় দৌহিত্র ও তার অনুসারীরা। কারবালার ঘটনার আগেই এমনকি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুনিয়ায় আবির্ভাবের আগে থেকেই আশুরা সব নবী-রসুলের সময়ে স্মরণীয় দিন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পবিত্র দিনে রোজা রাখতেন। অন্যদের রোজা রাখতে আহ্বান জানাতেন। কারবালার ঘটনা ১০ মহররম বা আশুরার দিনকে আরও তাৎপর্যমন্ডিত করেছে। ১০ মহররম বা পবিত্র আশুরা মহিমান্বিত দিন হিসেবে পরিচিত মানব সৃষ্টির আগে থেকেই। এই দিনে আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টিও হয়েছে এই দিনে। আল্লাহর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের দায়ে জান্নাত থেকে এই দিনে হজরত আদম ও হাওয়া (আ.)-কে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তাদের তওবা কবুল করা হয় এই দিনে। হজরত ইবরাহিম (আ.) এই দিনে রাজা নমরুদের অগ্নিকান্ডে নিক্ষিপ্ত হলে আল্লাহর হুকুমে আগুন তাকে গ্রাস করার বদলে সেখানে জান্নাতের সুশীতল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুনিয়ার প্রথম মানব ও প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে হজরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত অসংখ্য নবীর সঙ্গে ১০ মহররম বা আশুরার যোগসূত্র রয়েছে। রসুল (সা.)-এর উম্মতদের কাছে দিনটি কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ ৭০ জনেরও বেশি আওলাদে রসুল ও তাদের অনুসারী শাহাদাতবরণ করেন আশুরার দিনে। আজ থেকে প্রায় পৌনে ১৪০০ বছর আগে ইরাকের কারবালা মরুপ্রান্তরে তারা শহীদ হন ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার অবৈধ হুকুমত ঠেকানোর যুদ্ধে। হজরত আলী (রা.)-এর আমলে সমঝোতা হয় তার পরে হজরত মুয়াবিয়া (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার পরে খিলাফত যাবে হজরত হাসান (রা.) ও হোসাইন (রা.)-এর কাছে। এ সমঝোতার প্রতি সম্মান না দিয়ে মদ্যপ ও লম্পট পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের উত্তরাধিকার করা হলে প্রতিবাদ ওঠে। হজরত হোসাইন (রা.) জীবন দিয়ে হলেও ইসলামী হুকুমতের পবিত্রতা রক্ষায় ব্রতী হন। আওলাদে রসুল (সা.)-এর প্রতি বিদ্বেষমনোভাবাপন্ন ইয়াজিদ নবী-দৌহিত্র হজরত ইমাম হাসান (রা.)-কে বিষপ্রয়োগে হত্যা করে। আরেক দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কারবালার  প্রান্তরে দীর্ঘ এক মাস অবরুদ্ধ করে এক অসম যুদ্ধে পরিবার-পরিজনসহ হত্যা করা হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াইয়ে রচিত হয় নতুন ইতিহাস। কারবালায় মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের পতাকা তুলে ধরেছিলেন নবী-দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)। শাহাদাতবরণ করে তিনি মুসলমানদের শিক্ষা দেন জীবনের চেয়েও আদর্শ অনেক বড়। কারবালায় ৭০ জনেরও বেশি আওলাদে রসুল ও তাদের অনুসারীদের জীবনদান মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে মুসলমানদের যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইনের নেতৃত্বাধীন সত্য ও ন্যায়ের শক্তি দৃশ্যত পরাজিত হয়েছিল ইয়াজিদের অশুভশক্তির কাছে। কিন্তু ইতিহাসের ঘৃণা থেকে ইয়াজিদ বা তার অনুসারীরা কখনই রক্ষা পায়নি।

            লেখক : ইসলামী গবেষক।


আপনার মন্তব্য