শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৪

বেকারত্ব দূরীকরণ

কর্মমুখী শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে হবে

বেকারত্ব দূরীকরণ

দেশের লাখ লাখ মানুষ বেকার বা অর্ধ বেকার। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আগ্রাসীভাবে বাড়ছে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিপরীত চিত্র। দক্ষ কর্মীর অভাবও দেশে প্রকট। যে অভাব পূরণে দেশি বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হাজার হাজার বিদেশি কাজ করছেন। দক্ষ লোকের অভাব থাকায় উদ্যোক্তারা বিদেশি কর্র্মীদের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৬টি দেশের নাগরিকরা এক বছরে বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গেছেন ২০১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। বিপুল এই অর্থের সবচেয়ে বেশি গেছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামে। বাংলাদেশে বর্তমানে কমবেশি প্রায় ১০ লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। আর আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে বৈধ পথের বাইরে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে রেমিট্যান্স হিসেবে চলে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার হার ও পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। কারণ প্রতিদিন গড়ে বাংলাদেশে আসা ৮ হাজার বিদেশি নাগরিকের প্রায় অর্ধেকই দীর্ঘমেয়াদে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় পদগুলো চলে যাচ্ছে বিদেশিদের দখলে, তেমনি বাংলাদেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে সীমানার বাইরে। সরকার বেকারত্ব দূরীকরণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে। তবে এ-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা কতটা জুতসই তা সংশয়ের ঊর্ধ্বে নয়। পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান নীতিমালা ছাড়া এ ক্ষেত্রে কতটা সফল হওয়া যাবে তাও ভাবার বিষয়। আমাদের মতে, বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ ব্যাপারে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার।


আপনার মন্তব্য