শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৩

ইসলামে শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের কর্তব্য

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

ইসলামে শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের কর্তব্য

পয়লা মে মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও সংহতির রক্তঝরা দিন। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণাদানকারী দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সূচিত হলো ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের শ্রমনীতি অনুসরণের বিকল্প নেই। ইসলাম শ্রমকে মহান মর্যাদা দান করেছে। বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও শ্রম দিয়েছেন এবং শ্রমিকের প্রাপ্য মর্যাদার ব্যাপারে সর্বদা আন্তরিক ছিলেন। শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।’ ইবনে মাজাহ, বায়হাকি। তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিককে তার সামর্থ্যরে চেয়ে বেশি কাজ দিও না। যদি কখনো এমনটি করতেই হয় তবে তুমি নিজে তার সহযোগিতা করবে।’ যারা শ্রমিককে খাটিয়ে তার মজুরি নিয়ে টালবাহানা করে এবং সঠিকভাবে তা আদায় করে না এমন পাপীদের ব্যাপারে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘কাল কিয়ামতের ময়দানে আমি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে মামলা দায়ের করব, যারা শ্রমিকের কাছ থেকে পূর্ণ কাজ বুঝে নিল কিন্তু তাকে তার মজুরি দিল না।’ মুসলিম। অনেক সময় রাস্তাঘাটে যুবকদের দেখি, কথায় কথায় বাবার বয়সী শ্রমিকের ওপর হাত তোলে। আবার উচ্চশিক্ষিত তথাকথিত সুশীল ব্যক্তিরাও মাঝে মাঝে শ্রমিক নির্যাতনে মেতে ওঠেন, পত্রিকার পাতায় প্রকাশ পায় শ্রমিক নির্যাতনের বীভৎস ছবি। এমন পাষ-দের ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শ্রমিকের প্রতি সদাচরণ ও তাদের প্রতি কোনোরকম জুলুম না করাই হলো নবী আদর্শের অনুপম শিক্ষা। হজরত আবু মাসউদ (রা.) বলেন, ‘একদা আমি আমার কাজের লোককে চাবুক দ্বারা প্রহার করছিলাম। এমন সময় পেছন দিক থেকে কে যেন রাগের স্বরে আমার নাম ধরে ডাকছিল, হে আবু মাসউদ! হে আবু মাসউদ! প্রচন্ড রাগতস্বরের কারণে আমি বুঝতে পারিনি কে আমাকে ডাকছে। কাছে আসার পর দেখলাম রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। অতঃপর আমাকে বললেন, আবু মাসউদ! তুমি এই শ্রমিকের ওপর যতটা শক্তিশালী, মহান আল্লাহ কিন্তু তোমার ওপর তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।’ মুসলিম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘তোমাদের ভৃত্য বা দাসী তোমাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করলে তা থেকে তাকেও একটি অংশ দিও। কেননা রান্নার ধোঁয়া এবং তাপ তো সে-ই সহ্য করেছে।’ ইসলাম শ্রম অধিকারের পাশাপাশি শ্রমিকের দায়িত্ব-কর্তব্যের প্রতিও অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। কারণ, অধিকারবিহীন দায়িত্ব যেমন বঞ্চনা দেয়, দায়িত্বহীন অধিকারও ঔদ্ধত্যের জন্ম দেয়। শ্রমিক যদি দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি বা মালিকের ব্যবসার ইচ্ছাকৃত ক্ষতিসাধন করে তবে ইসলাম তার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির বিধান আরোপ করেছে।

লেখক : খতিব

মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

Email : [email protected]


আপনার মন্তব্য