Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মে, ২০১৯ ২২:৫৫

জনজীবনে স্থবিরতা

দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে

জনজীবনে স্থবিরতা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কের অবসান ঘটেছে। ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিম বাংলা লন্ডভন্ড করার পর বাংলাদেশেও তার বিষ নিঃশ্বাস ফেললেও এড়ানো গেছে বিপর্যয়। ফণীর প্রভাবে গত দুই দিন দেশের অধিকাংশ স্থানের জনজীবন প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সময় সাগরের উত্তাল জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। প্রবল বর্ষণে জনজীবনে যেমন নেমে আসে দুর্ভোগ তেমন বোরো ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাতে গত তিন দিনে সারা দেশে অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত চার যুগে ভারত মহাসাগর বা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট কোনো ঘূর্ণিঝড় ফণীর মতো ফণা তুলে ছোবল হানতে পারেনি। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ উপকূল অঞ্চলে মানুষ ও গবাদিপশুর হাজার হাজার লাশের গন্ধে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সত্তরের প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের চেয়েও ফণীর দাপট ছিল বেশি। তবে ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিম বাংলায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানায় তার গতি অনেকটাই হ্রাস পায়। তার পরও ঘূর্ণিঝড়ের প্রতিক্রিয়ায় সারা দেশে অন্তত হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূণিঝড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতে বোরোর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধানের বড় ধরনের ক্ষতি হলে দেশের চাহিদা মেটাতে চাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে এবং তা অর্থনীতির জন্য বিসংবাদ ডেকে আনবে। টানা প্রবল বৃষ্টিপাতে রাস্তাঘাটের যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণও বিশাল। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো সত্যিকার অর্থেই অসম্ভব। তবে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারে দুর্যোগ প্রতিরোধের টেকসই ব্যবস্থা। দেশের উপকূলভাগে ভেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস না হলে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয় না। ফণীর করাল গ্রাসে উপকূলের কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলেও এজন্য দায়ী বাঁধ নির্মাণ বা বাঁধ সংরক্ষণে ফাঁকিজুকির ঘটনা। যেসব কারণে আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডো সৃষ্টি হয়, তা রোধ করেও এ ধরনের দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শুধু নয়, বিশ্ববাসীকে সচেতন হতে হবে।


আপনার মন্তব্য