Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মে, ২০১৯ ২২:৫৬

বিদেশি বিনিয়োগে সুখবর

তার পরও আত্মসন্তুষ্টির সুযোগ নেই

বিদেশি বিনিয়োগে সুখবর

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। দেশের ইতিহাসে গত বছরই সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে এবং এটি আগের বছরের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের মুদ্রায় গত অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দেশে প্রায় এক দশক ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা, জিডিপির উচ্চহারের প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কারণে বাংলাদেশে গত বছর রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে রূপান্তর হওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এ পথে এগোতে হলে বছরে অন্তত ১ হাজার কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন। ২০১৮ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ এলেও তা সরকারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। জিডিপি অনুপাতে গত বছর যে বিনিয়োগ এসেছে তা ২ শতাংশেরও কম। পাশের দেশগুলোয় জিডিপির অনুপাতে যে বিনিয়োগ আসছে বাংলাদেশ সেদিক থেকে পিছিয়ে। স্মর্তব্য, বিদেশিরা নিজ দেশের বাইরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় বিবেচনায় নেয়। এর মধ্যে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ডুইং বিজনেস সূচক, ব্যবসার ছাড়পত্র এবং জমি ও শ্রমের সহজলভ্যতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সস্তা শ্রম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করেছে। বিনিয়োগ বাড়াতে অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ডুইং বিজনেস সূচকের মাধ্যমে একটি দেশে ব্যবসা করার নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়া কতটা সহজ বা কঠিন, তার তুলনামূলক চিত্র উঠে আসে। বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণসংক্রান্ত ডুইং বিজনেস রিপোর্ট ২০১৮ অনুযায়ী, ১৯০টি দেশের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম। ২০১৭ সালে এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম। অর্থাৎ গত বছর ব্যবসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতি হয়েছে। তবে ২০২১ সালের মধ্যে ডুইং বিজনেস সূচকে ১০০-এর নিচে আসতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এরই মধ্যে বিডায় পাইলট আকারে ওয়ানস্টপ সার্ভিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে মিলছে প্রায় ১৫টি সেবা। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে আগের বছরের চেয়ে ৬৮ শতাংশের বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ সুখবর হলেও এতে আত্মসন্তুষ্টির সুযোগ নেই। দেশকে মধ্যম ও পরবর্তীতে উন্নত বিশ্বের কাতারে যেতে হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে।


আপনার মন্তব্য