Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:৩৯

ধর্মতত্ত্ব

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

লাইলাতুল কদর এক মহিমান্বিত রাত। তুলনাধীন গৌরব ও মর্যাদার অধিকারী এই পবিত্র রাত। আরবি লাইল শব্দের অর্থ রাত বা রজনি। কদর শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্মান, মর্যাদাবান, ভাগ্য গণনা-নির্ধারণ ইত্যাদি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিমান্বিত রজনি বা লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বিজোড়ু রাতের উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আজকের সাতাশের রাতটি অন্যতম।

লাইলাতুল কদর এমন একটি রজনি যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এবং প্রত্যেক কদরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো নিষ্পাপরূপে পরিগণিত হন। এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে আল্লাহ ‘কদর’ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ‘নিশ্চয় আমি এটি (আল কোরআন) নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই মর্যাদাপূর্ণ রাত কী? এই মহিমান্বিত রজনিটি হাজার মাস থেকেও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অর্থাৎ জিবরাইল তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করে। আর (তারা) শান্তি (বর্ষণ করতে থাকে) যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ কদরের রাত এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, এ রাতে আল কোরআন নাজিল হয়েছে। জয়নাব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, ‘রমজানের যখন ১০ দিন বাকি থাকত তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের যারা সালাতে দাঁড়াতে সক্ষম তাদের তিনি সালাতে না দাঁড়ু করিয়ে ছাড়ুতেন না।’ তিরমিজি, ফতহুল বারি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং প্রায় রাতভর নিজে ইবাদতের মধ্যে কাটাতেন ও পরিবারবর্গকেও নামাজে দাঁড়ু করাতেন। বায়হাকির বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, দাঁড়িয়ে ও বসে জিকিররত মুমিন বান্দাকে এ রাতে জিবরাইল (আ.) সালাম দেন এবং ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আমি যদি জানতে পারি যে কোন রাতটা কদরের, তাহলে ওই রাতে আমি কী বলব? তিনি বললেন, এ দোয়া বলবে, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাময়। তুমি ক্ষমা কর, ভালোবাসো। অতএব, আমাকে ক্ষমা কর।’ আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত, নাসাই, বায়হাকি।

 

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য