Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জুন, ২০১৯ ২৩:৩৮

পবিত্র ঈদুল ফিতর

উৎসব ভাগাভাগি করে নিতে হবে

পবিত্র ঈদুল ফিতর

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। নব্বই শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশে এটি জাতীয় উৎসবেরও দাবিদার। এ উৎসবে শরিক হয় সব সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে ঈদুল ফিতর হলো সিয়াম সাধকদের জন্য মহান আল্লাহর পুরস্কার। ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিশেষভাবে আসে তাদের জন্যই যারা মাহে রমজানে আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় নিজেদের আলোকিত করেন। শাব্দিক দিক থেকে ঈদের অর্থ বারবার ফিরে আসে এমন আনন্দ। আর ফিতর শব্দটির উৎপত্তি আরবি ফুতুর থেকে। যার অর্থ সকাল বেলার নাস্তা বা মূল্যবান পুরস্কার। রমজানে আল্লাহর যেসব বান্দা সিয়াম সাধনা করে শাওয়াল মাসের সূচনায় রোজা ভঙ্গ এবং ঈদের জামাতে হাজির হওয়াই হলো ইসলামী পরিভাষায় ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের সকালে বিশ্বাসী মানুষ ছুটে যান ঈদগাহে। ঈদের নামাজ শেষে তারা একে-অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। মুমিনদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে ঈদগাহের এই মিলনমেলা। মানুষ উৎসবী পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন মন-মানসিকতা দিয়ে একে-অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পবিত্র জীবনযাপন করবে আল্লাহ তেমনটিই চান। এ উৎসবে সমাজের ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সব বিশ্বাসী মানুষ যাতে অংশ নিতে পারে, সে জন্য রয়েছে আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধান। এ জন্যই সদকাতুল ফিতর আদায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাহে রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা মানুষকে যেমন ত্যাগের শিক্ষা দেয়, তেমনি ঈদ উৎসবকে ধনী-নির্ধন-নির্বিশেষে আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগাভাগির তাগিদ দেয়। এবারের ঈদে আমরা সবাই সমাজের গরিব-দুঃখী মানুষের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে ঐশী নির্দেশনার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করব। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ পালনের জন্য অন্তত ৭০ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। অন্যান্য মহানগরী থেকেও কর্মজীবী মানুষেরা ঈদ পালনের জন্য ফিরেছেন নিজেদের গ্রামে বা মহল্লায় নাড়ির টানে। আমরা আশা করব, তাদের সবাই সুস্থভাবে কর্মস্থলে ফিরে আসবেন। ঈদ উপলক্ষে জঙ্গি বিভেদকামী শক্তি যাতে কোথাও আঘাত হানার সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রগতি নস্যাৎ করতে জঙ্গি নামের নোংরা ভূতদের অপতৎপরতা রোধে সবাইকে থাকতে হবে সজাগ। সবারই জানা দুই বছর আগে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত শোলাকিয়ায় হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিবাদের উপাসকরা। এবারের মাহে রমজানেও তাদের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ঈদে যাতে তাদের কোনো অপতৎপরতা মাথা উঁচু করার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

 


আপনার মন্তব্য