Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৯ ২৩:২৪

‘জনকল্যাণের জন্য বাজেট’

সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে

‘জনকল্যাণের জন্য বাজেট’

প্রধানমন্ত্রী বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণের বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাজেটে কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে বলেছেন, এ টাকা যাতে বিদেশে পাচার হয়ে না যায় তা নিশ্চিত করতে এমন সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অতীতের সব সরকার এমন সুযোগ দিয়েছে। তার সরকারের আমলের বিভিন্ন বাজেটেও তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেই ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না, এমন কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট করেছেন কর্মসংস্থান মানে চাকরি নয়। ১৬ কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া সম্ভবও নয়। সরকার দেশে যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে তা বাস্তবায়ন হলে চাকরি ছাড়াও নানাভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। প্রধানমন্ত্রী সমালোচকদের বক্তব্য নাকচ করে বলেছেন, ভালো না লাগা পার্টি যারা তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগবে না। আমাদের দেশের কিছু লোক আছেন মানসিক অসুস্থতার কারণে কিছুই তাদের ভালো লাগে না। বাজেটের সুফল একেবারে গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছর বাজেট পেশ এবং ঐতিহ্য অনুযায়ী বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন দুটিতেই ব্যতিক্রম ঘটেছে। অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় সংসদে বাজেট পেশ করলেও তা পাঠ করতে তার কষ্ট হচ্ছিল। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাজেট বক্তৃতার অসমাপ্ত অংশ নিজে পাঠ করেন। পরদিন শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত থাকায় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের জবাব দেন। সন্দেহ নেই, বাজেট প্রণয়ন একটি সামগ্রিক কাজ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেই অর্থমন্ত্রী তা প্রণয়ন করেন ও সংসদে পেশ করেন। সেদিক থেকে বাজেট পেশ ও বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ বাজেট সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্টভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এদিক থেকে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাড়তি তাৎপর্যের দাবিদার। আমরা আশা করব সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বাজেটের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো জনগণের কাছে স্পষ্ট করবে। সেজন্য সকল পর্যায়ে প্রয়োজন সুশাসন; যা নিশ্চিত করাকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে- আমরা এমনটিই দেখতে চাই। দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশাও অভিন্ন।


আপনার মন্তব্য