শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৯ ২৩:২৬

ইতিহাস

চীন-মার্কিন সম্পর্ক

চীন-মার্কিন সম্পর্ক

ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যকার সুসম্পর্কই কিসিঞ্জারকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তিনি ভেবেছিলেন এর ফলে উপমহাদেশে সোভিয়েত প্রভাব মারাত্মক বেড়ে যাবে। তাই এ সমস্যা সমাধানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এসব কিছু হয়েছিল কিসিঞ্জারের তত্ত্বাবধানে।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নের ঘটনাটি রিয়েল পলিটিক্সের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রিয়েল পলিটিক্স হচ্ছে এমন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যেখানে কাগজ-কলমের তত্ত্বের চেয়ে রাজনীতির বাস্তবিক প্রয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ‘পিংপং ডিপ্লোম্যাসি’ খ্যাত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পেছনে মূল কলকাঠি নাড়েন কিসিঞ্জার। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সহযোগিতায় হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে চীন ভ্রমণ করে চীনে নিক্সনের জন্য একটি সরকারি ভ্রমণের ব্যবস্থা করেন, যার ফলে নিক্সন ১৯৭২ সালে চীন ভ্রমণ করেন। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এ সম্পর্ক উন্নয়ন দুই দেশের নেতারাই অনেকদিন থেকে মনেপ্রাণে চেয়ে আসছিলেন। ফলে ’৭১ সালে যখন সুযোগটি এলো আর সেখানে পাকিস্তানের সহায়তা ছিল (রোমানিয়ার সরকারও যুক্ত ছিল) তখন নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটি মার্চে পাকিস্তানের বর্বর গণহত্যার বিষয়টিকে নীরবে সমর্থন দিয়ে এলেন। এমনকি আর্চার কে. ব্লাড যখন ২৫ মার্চের ধ্বংসযজ্ঞকে সরাসরি গণহত্যা বলে অভিহিত করে ওয়াশিংটনে তারবার্তা পাঠান, যেটি ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে খ্যাত, সেটি সম্পূর্ণভাবে শুধু এড়িয়ে গিয়েই ক্ষান্ত হননি নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটি, বরং বাংলাদেশে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ব্লাডকে তার ঢাকা অফিস থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওয়াশিংটনে স্থানান্তর করা হয়।

২০০৭ সালের ১ এপ্রিল হেনরি কিসিঞ্জারের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক। সরাসরি কিসিঞ্জারকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিসিঞ্জার বলেন, ‘...বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয়, ভারতীয় অগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের পলিসি ছিল, যাতে ভারতীয়রা পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকে না পড়ে।’ কিন্তু এই কিসিঞ্জারই যুদ্ধের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ পাঠানোর সরাসরি নির্দেশ দেন। তবে কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছেন কিনা এ নিয়ে বিতর্ক আছে। বেশির ভাগ তথ্য-প্রমাণ নির্দেশ করে তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেননি, বরং তিনি পরোক্ষভাবে ‘বাস্কেট কেইজ’ বলেছিলেন।


আপনার মন্তব্য