Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৬

খুনিদের পরিণাম জাহান্নাম

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

খুনিদের পরিণাম জাহান্নাম

দুনিয়ার প্রথম হত্যাকান্ড ঘটেছিল হজরত আদম (আ.)-এর সময়ে। তার পুত্র কাবিল ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল হিংসাশ্রয়ী মনোভাব নিয়ে।  হিংসাশ্রয়ী মনোভাব যুগে যুগে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। ইসলামের চার খলিফার তিনজন হজরত ওমর (রা.), হজরত উসমান (রা.) এবং হজরত আলী (রা.) প্রাণ হারিয়েছেন হিংসাশ্রয়ী অপশক্তির হাতে। রসুল (সা.)-এর দুই প্রিয় নাতি ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসেন (রা.) নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। ক্ষমতালোভী পাপিষ্ঠ ইয়াজিদ চক্রের হাতে তাদের প্রাণ হারাতে হয়। মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসেও ক্ষমতালিপ্সার কারণে অসংখ্য হত্যাকান্ড ঘটেছে। আমাদের জাতীয় জীবনেও ষড়যন্ত্র, হানাহানি ও অকারণ হত্যাকান্ড ট্র্যাজেডি সৃষ্টি করেছে। হানাহানি ও অকারণ রক্তপাত মানব সমাজে বিভক্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে। যে কারণে ইসলামী অনুশাসনে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে অকারণে হত্যাকান্ডকে সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সূরা নিছার ৯৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত কোনো মুসলমানকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। ইসলামে হত্যাকা-কে কবিরা গুনাহ ঘোষণা করে এ পাপকান্ডে জড়িত হওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি এবং মানুষের জীবন রক্ষায় অবদান রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সূরা আল মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘এ কারণেই আমি বনি ইসরাইলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে কেউ কোনো হত্যার বিনিময়ে অথবা পৃথিবীতে গোলযোগ সৃষ্টি করার অপরাধ ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবকুলকে হত্যা করল, আর যে কারও জীবন বাঁচাল সে যেন সমগ্র মানবকুলের জীবন বাঁচাল।’ 

লেখক : ইসলামী গবেষক।


আপনার মন্তব্য