Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৫৮

নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য

উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ হোক

নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য

নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্যের কারণে দেশে একের পর এক অগ্নিকা- ঘটছে। নকল পণ্য কিনে মানুষ শুধু আর্থিকভাবেই ঠকছে না, জীবনও হারাচ্ছে। বাজারে যেসব বৈদ্যুতিক পণ্য বিক্রি হয় তার ৪০ শতাংশই নকল অথবা নিম্নমানের। নকল বা নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার, সুইচ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিকান্ডের সূচনা হচ্ছে। ভস্মীভূত করছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে সারা দেশে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৮টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালেই ঘটেছে ১৯ হাজার ৬৪২টি, যার মধ্যে ঢাকাতেই ঘটে ২ হাজার ৮৮টি। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে এসব দুর্ঘটনার বড় অংশই এড়ানো যেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিদ্যুৎ থেকে অধিকাংশ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয় আর্থিং বা স্ফুলিঙ্গের কারণে। নিম্নমানের তার ও বিদ্যুৎ পণ্যে কপার কম থাকায় কাক্সিক্ষত বিদ্যুৎপ্রবাহ নিতে পারে না এবং তার গরম হয়ে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হলে প্লাস্টিকের আবরণ গলে নেগেটিভ-পজিটিভ এক হয়ে শর্টসার্কিট হয়। আবার দুই তারের মাঝে বিদ্যুৎ অপরিবাহী আস্তরণ সঠিক মাত্রায় না থাকায়ও আর্থিং হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী সার্কিট ব্রেকার পুড়ে গেছে, কিন্তু বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়নি। লোড অনুযায়ী পণ্য বাছাই না করায় এটা হচ্ছে। ইলেকট্রিক্যাল ডিজাইনার দিয়ে সঠিক পণ্য বাছাই করলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যেত। বিএসটিআইর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কেবল, ৮টি প্রতিষ্ঠানের সুইচ-সকেট, ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের ফ্যান তৈরির লাইসেন্স রয়েছে। অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির লাইসেন্স রয়েছে আরও ২২টি প্রতিষ্ঠানের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের বাইরে সহস্রাধিক কারখানায় নকল পণ্য তৈরি হচ্ছে। তা সারা দেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে অগ্নিকান্ডের বিপদ ঠেকাতে হলে নকল ও মানহীন বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। বিএসটিআইর অনুমোদন নেই এমন কোনো বৈদ্যুতিক পণ্য বেচাকেনা এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করা দরকার। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য আমদানি রোধেও নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা। এটি করা সম্ভব হলে নকল ও নিম্নমানের পণ্য কিনে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার পথ যেমন বন্ধ হবে তেমন হ্রাস পাবে অগ্নিকা-জনিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা। অগ্নিকান্ডে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে যাওয়ার বিড়ম্বনা থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

 


আপনার মন্তব্য