শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২০

রোহিঙ্গা ধৃষ্টতা

ওদের যেভাবে হোক ফেরত পাঠান

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়ে আশ্রয়দাতাদের ওপর ছোবল মারার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের বেপরোয়া নাগরিকরা কৃতঘ্নতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা নামের দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফের এক যুবলীগ নেতা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান ও তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের হত্যাকা- টেকনাফের জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। টেকনাফবাসী তাদের এলাকা থেকে রোহিঙ্গা নামের দুর্বৃত্তদের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। মিয়ানমারের রাখাইনের অর্ধসভ্য রোহিঙ্গা জাতি-গোষ্ঠীকে বিশ্বাসঘাতক ও কৃতঘ্নতার প্রতিকৃতি বলে ভাবা হয়। মধ্যযুগে রোহিঙ্গারা আরাকান বা আজকের রাখাইনে বসতি গড়ে। সে দেশের মানুষ তাদের দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখে রোহিঙ্গা নামের অর্বাচীন জাতিগোষ্ঠী। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষ ও মিয়ানমারকে স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঔপনিবেশিক শাসকরা। এ সময় রোহিঙ্গারা পাকিস্তানে যোগদানের আবদার জানায়। তবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মিয়ানমারের এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কা-জ্ঞানহীন সিদ্ধান্তে সায় দেননি। এশিয়ার এই অঞ্চলে পশ্চিমা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে সাম্প্রতিক সময়ে শিখ-ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রোহিঙ্গা নামের জনগোষ্ঠী। স্বভাবতই একদিকে মিয়ানমার সরকার অন্যদিকে রাখাইনের ভূমিপুত্র রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংঘাত দানা বেঁধে ওঠে। সেই সংঘাতের পরিণতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশের মানুষ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়। তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও আদায় করে। কিন্তু কৃতঘ্ন রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাওয়ার বদলে যেভাবেই হোক বাংলাদেশে খুঁটি গেড়ে থাকার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় বাংলাদেশিদের

ওপর হামলা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ওমর ফারুক হত্যাকান্ড  সে অভ্যাসের সর্বশেষ উদাহরণ। আমাদের বিশ্বাস, এ হত্যার সঙ্গে

জড়িতদের গ্রেফতার এবং রোহিঙ্গাদের অতিসত্বর তাদের নিজ দেশে  ফেরত পাঠাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।


আপনার মন্তব্য