শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৯

জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ

অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে

জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে রাঙামাটির কাপ্তাই একটি স্মরণীয় নাম। প্রায় ৬০ বছর আগে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাকিস্তান আমলে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশ মেটানো হতো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ দিয়ে। সেই কাপ্তাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম সরকারি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের এই অগ্রগতির কথা দেশবাসীকে অবহিত করেন। দুনিয়াজুড়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লা দিয়ে বিদ্যুতের বড় অংশ উৎপাদিত হয়। দুনিয়াজুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কিন্তু প্রাকৃতিক জ্বালানির মজুদ সীমিত হয়ে পড়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে উন্নত দেশগুলো। বাংলাদেশও ইতিমধ্যে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি কানেকটেড বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পাশাপাশি অচিরেই কাপ্তাইয়ে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যে দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদনের লক্ষ্য সামনে রেখে কাপ্তাইয়ে সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও ব্যক্তি-উদ্যোগে বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের জন্য সোলার প্যানেল ব্যবহৃত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সরকারি হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সৌরশক্তির সাহায্যে সরকারিভাবে যে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে তাতে খরচ পড়েছে ১১০ কোটি টাকা। অর্থসহায়তা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৯ জুলাই। পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বেশ আগেই। এ প্রকল্পের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। সরকারিভাবে এটাই প্রথম কোনো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, যেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় অপেক্ষাকৃত বেশি হলেও ভবিষ্যতে যেহেতু প্রাকৃতিক জ্বালানি পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে সেহেতু নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুৎকে অমিত সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে।

 


আপনার মন্তব্য