শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৯

নানচিং গণহত্যা

অপূর্ব আজাদ

নানচিং গণহত্যা

নানচিং গণহত্যা ইতিহাসে নানচিং ধর্ষণ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে চীন-জাপান যুদ্ধের সময় রাজকীয় জাপানি সেনাবাহিনী তৎকালীন চীনের রাজধানী নানচিংয়ের অধিবাসীদের ওপর ওই নির্দয় গণহত্যা চালায়। ৬ সপ্তাহব্যাপী এই গণহত্যা শুরু হয় ১৯৩৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর। এ সময়ে জাপানের রাজকীয় সেনাবাহিনী চার লাখ নিরীহ চীনাকে হত্যা এবং ব্যাপক লুটপাট ও ধর্ষণ করে। ১৯৩৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রায় দেড় লাখ জাপানি সৈন্য চীনা শহর নানচিং দখল করে নেয়। দখলের আগে জাপানিরা চীনা রাজধানী অবরোধ করে রাখে দীর্ঘদিন ধরে। তারপর ছয় সপ্তাহ ধরে শহরটিতে অবিশ্বাস্য গণহত্যা সংঘটিত হয়। জাপানি সৈন্যরা কখনো পরিকল্পিতভাবে চালিয়েছে নির্দয় হত্যাকা-। কখনো কেবল আনন্দের উদ্দেশ্যে শহরটির লোকদের হত্যা ও ধর্ষণ করে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ সামরিক নেতার কোনো বিচার বা শাস্তি হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে এই যুদ্ধাপরাধের জন্য সাজা দেওয়া হলেও মূল পরিকল্পনাকরী প্রিন্স আসাকাকে শাস্তি দেওয়া যায়নি। জাপানি সম্রাট হিরোহিতোকে কোনো শাস্তি পেতে হয়নি। কারণ সম্রাটের সাজা হবে না এ প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে জাপান আত্মসমর্পণ করে। তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পূর্বে এ সম্পর্কিত সব প্রমাণাদি ধ্বংস করে ফেলা হয়। ১৯৪৬ সালে টোকিওতে গঠিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য মতে এই গণহত্যায় ২ লাখের বেশি চীনাকে হত্যা করা হয়। ১৯৪৭ সালে চীনে গঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যা করা হয় ৩ লাখের বেশি মানুষকে। চীনের তৎকালীন রাজধানী নানচিং দখলের পর যে গণহত্যা চলে তা মাত্র ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হয়। তারপর গণহত্যা বন্ধ হলেও জাপানি সেনাবাহিনীর বর্বরতা চলতে থাকে। সাংহাই থেকে নানচিং অভিযানের সময়ে জাপানি বাহিনীকে চীনাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করার স্বাধীন দেওয়া হয়। এক জাপানি সাংবাদিকের বর্ণনায় পাওয়া যায়, দশম বাহিনীকে বলা হয়েছিল, তারা যত দ্রুত নানচিং পৌঁছতে পারবে তত বেশি লুট ও নারী ধর্ষণের সুযোগ পাবে। জাপানি সৈন্যরা লুটপাটের চেয়ে ধর্ষণে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ে। তারা নানচিং দখলের পর সেখানকার সব স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। বেয়োনেট অথবা বিশেষ সামরিক তরবারি দিয়ে হত্যা করা হয় অসংখ্য চীনাকে। বিপুলসংখ্যক চীনা বেসামরিক ব্যক্তিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের উপরে ছুড়ে তরবারি দিয়ে বিদ্ধ করার ঘটনাও ঘটে। এটাকে মজার খেলা বলে মনে করত জাপানি সৈন্যরা।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাপানি সৈন্যদের বর্বর আচরণের যে তথ্য ফাঁস হয়েছে তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। জাপানি সৈন্যরা নানচিংয়ে কমপক্ষে ২০ হাজার নারীকে ধর্ষণ করে। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নারী ও মেয়ে শিশুদের ধরে এনে ধর্ষণ করেছে জাপানি সৈন্যরা। অনেককে ধর্ষণের পরপরই হত্যা করা হয়। অনেক চীনা নারীকে যৌনাঙ্গে বেয়োনেট খুঁচিয়ে অথবা পায়ুপথে বাঁশ ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মেয়ে শিশুদের যোনিপথ কেটে বড় করে তারপর ধর্ষণ করেছে বর্বর জাপানি সৈন্যরা।


আপনার মন্তব্য