শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৮

ইত্তেবায়ে সুন্নাতের অপরিহার্যতা

মুফতি মিজানুর রহমান - সিনিয়র পেশ ইমাম : বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা

ইত্তেবায়ে সুন্নাতের অপরিহার্যতা

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজটি যেভাবে করেছেন তা ঠিক সেভাবে করাই হলো সুন্নাতের ইত্তেবা বা অনুসরণ। সুন্নাতে রসুলের ইত্তেবা ছাড়া কোনো ইবাদত শুদ্ধ হয় না। এ কারণেই ইবাদতের ক্ষেত্রে সুন্নাতে রসুলের ইত্তেবার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ বলেন, ‘আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ কোরো না, তাহলে তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এ নির্দেশ তিনি তোমাদের দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ সূরা আনয়াম, আয়াত ১৫৩।

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত যাতে আল্লাহ স্বীয় রসুলের ইত্তেবা করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর পথের ইত্তেবা ছাড়া অন্যসব পথ পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আয়াতে সিরাতে মুস্তাকিমের অর্থ হলো, আল্লাহর পথ যে পথের প্রতি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে আহ্বান করেছেন। আর তা হলো রসুলের ইত্তেবা ও তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ।’ তাফসিরে কুরতুবি।

আবার রসুলের অনুসরণ না করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে কঠিন হুঁশিয়ারি। আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাঁর (রসুলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা এ ব্যাপারে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের ওপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। সূরা নূর, আয়াত ৬৩। ইবনুল আরাবি (রহ.) জুবাইর ইবনে বুকার থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘মালিক ইবনে আনাস (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আবু আবদুল্লাহ! আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব? তিনি বললেন, জুল হুলাইফা থেকে, যেখান থেকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বেঁধেছেন। তখন লোকটি বললেন, আমি রসুলের মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই। তিনি বললেন, না, তুমি তা কোরো না। লোকটি বললেন, আমি মসজিদের পাশে রসুলের কবরের কাছ থেকে ইহরাম বাঁধব। তিনি বললেন, না, তুমি তা কোরো না, আমি ভয় করছি তুমি কোনো ফিতনায় আক্রান্ত হবে। লোকটি বললেন, কীসের ফিতনা? তখন তিনি বললেন, এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে, তুমি মনে করছ, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক ফজিলত লাভ করবে, যা তিনি লাভ করতে পারেননি।’ আল্লাহ বলেন, ‘অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আজাব পৌঁছার ভয় করে।’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফিজ ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বিরুদ্ধাচরণ করবে তাদের ওপর বিপর্যয় ও আজাব নেমে আসবে। অতএব মানুষ যেন তার প্রতিটি কথা ও কর্ম রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কর্মের কাছে পেশ করে। যেগুলো তাঁর কথা ও কর্মের সঙ্গে মিলে যাবে সেগুলো কেবল গ্রহণীয় হবে। আর যা মিলবে না তা প্রত্যাখ্যাত হবে।’ তাফসির ইবনে কাসির। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত।’ মুসলিম। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের শরিয়াতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’ বুখারি, মুসলিম, মিশকাত। অতএব রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতটুকু ইবাদত করেছেন, করতে বলেছেন এবং সমর্থন করেছেন, আমাদের জন্য ঠিক ততটুকু ইবাদতই পালনীয়। আর তাঁর সুন্নাত -বহির্ভূত আমল মানুষের কাছে যত ভালো কাজ হিসেবেই বিবেচিত হোক, তা অবশ্যই বর্জনীয়। আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাঁর (রসুলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা এ ব্যাপারে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের ওপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।’ সূরা নূর, আয়াত ৬৩।

অতএব, মানুষের সার্বিক জীবন পরিচালিত হবে একমাত্র ওহির বিধান তথা কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী। ওহির বিধানকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো পথের অনুসরণ করলে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে। হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমাদের (বোঝানোর জন্য) রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সরল রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা আল্লাহর রাস্তা। অতঃপর এর ডানে-বাঁয়ে আরও কতগুলো রেখা টানলেন এবং বললেন, এগুলোও রাস্তা তবে এর প্রত্যেক রাস্তার ওপর একটি করে শয়তান দাঁড়িয়ে আছে; সে লোকদের সেদিকে আহ্বান করে। অতঃপর (এর প্রমাণ কোরআনের এই আয়াতটি) তিলাওয়াত করলেন, “এটাই আমার সরল-সঠিক পথ। সুতরাং তোমরা এটারই অনুসরণ করবে এবং অন্য পথগুলোর অনুসরণ করবে না, করলে এটা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে”।’ সূরা আনয়াম, আয়াত ১৫৩।  আল্লাহ আমাদের সুন্নাতে নববীর পূর্ণ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন এবং মনগড়া সব ভ্রান্ত মত ও পথ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।


আপনার মন্তব্য