সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা

সবজি রপ্তানিতে সাফল্য

অযুত সম্ভাবনার হাতছানি

সবজি রপ্তানিতে নীরব বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে গত বছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছে ২৬২ শতাংশ। গত বছরের মোট রপ্তানির পরিমাণ অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে চলতি অর্থবছরের এক তৃতীয়াংশ সময়ে। গার্মেন্টসহ যেসব শিল্পপণ্য বিদেশে রপ্তানি হয় তার রপ্তানি আয়ের এক বড় অংশ চলে যায় কাঁচামাল আমদানিতে। কৃষিপণ্যে সে ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় নেই বললেই চলে। সবজি রপ্তানির যে সম্ভাবনা রয়েছে তার একটি ক্ষুদ্র অংশকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আয় অন্তত ২০ থেকে ৩০ গুণও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরে সবজি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার। গত ৪ মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৯ লাখ ডলার, রপ্তানি হয়েছে ১০ কোটি ৫২ লাখ ডলার। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। এক সময় দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোরেই কেবল সবজির চাষ হতো। এখন দেশের সব এলাকায় সারা বছরই সবজি চাষ হচ্ছে। সারা দেশে এখন ৬০ ধরনের ও ২০০ জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। ১ কোটি ৬২ লাখ কৃষক পরিবার সবজি চাষে জড়িত। ২০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে দেশে মাথাপিছু দৈনিক সবজি খাওয়ার পরিমাণ ছিল ৪২ গ্রাম। ২০১৮ সালে দেশে মাথাপিছু সবজি ভোগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ গ্রাম। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সবজি রপ্তানি বাড়াতে হলে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কয়েকটি সবজিতে কীটনাশক থাকায় কয়েকটি দেশ সবজি নেওয়া বন্ধ করে দেয়। কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে সে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। সবজি রপ্তানি বাড়াতে বিমানভাড়া সহনশীল করার তাগিদ দিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। কীভাবে তা সম্ভব হবে সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা দরকার।

এই রকম আরও টপিক