শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মে, ২০২০ ২৩:০৬

লোহার রডের বদলে বাঁশ

দোষী ঠিকাদারকে কঠিন শাস্তি দিন

কথায় বলে ইল্লত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে। করোনাকালে সারা দুনিয়ায় যখন ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি অবস্থা তখন বাংলাদেশের রিলিফ চোরদের অবস্থা দেখে মনে হয় দেশ তথা জগদ্বাসীর এই মহাবিপদের দিনেও চোরার দল চাটার দল বসে নেই। বসে নেই একশ্রেণির ঠিকাদার নামের লুটেরা মহাচোর। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদমে স্কুল ভবন নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছে। ভবন নির্মাণের ঠিকাদার আলীকদম সরকারি দলের নেতা এবং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লজ্জার মাথা খেয়ে বাঁশ ব্যবহারের কথা স্বীকারও করেছেন। স্মর্তব্য, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে ঠিকাদার লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করেছেন- এমন খবরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনকে জানান। অভিযোগ পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়। বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ত্রিদিব কুমার ত্রিপুরার ভাষ্য, অভিযোগ শুনেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বিদ্যালয় ভবনের ড্রপ ওয়াল নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন। তৎক্ষণাৎ ড্রপ ওয়ালটি ভেঙে বাঁশ ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড লোহার রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় দৃশ্যত করিৎকর্মা মনোভাবের পরিচয় দিলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেছেন, বহুবার বোর্ডের কাছে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি জানানো হলেও তারা দীর্ঘদিন অভিযোগটি গুরুত্ব দেননি। দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ নিয়ে ‘এলোমেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই’-এর ঘটনা অহরহ ঘটছে। সারা দেশের একটি স্কুল নির্মাণেও ঠিকাদাররা শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নেননি তা প্রমাণ করাও কঠিন। আমরা আশা করব, দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি নিজেকে যে দলের নেতা বলে পরিচয় দেন সে দলটি এমন লোককে দলে রাখবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়।


আপনার মন্তব্য